নিউজ ডেস্ক: “ওনার কথামতো চলি না” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, ইজরায়েল ও আমেরিকা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে এবং সব ব্যাপারে তাদের মতামত এক নয়। এখানেই শেষ নয়, তিনি এই বিষয়টিও পরিষ্কার করে দেন যে যতদিন দরকার পড়বে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে ইজরায়েলের সেনা।
১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে। শুধু তাই নয়, নতুন করে কোনও যুদ্ধ না হওয়ার বিষয়টির গ্যারান্টি দিতে হবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। কিন্তু তার পরোয়া না করে ইজরায়েলের তরফ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। কড়া সুরে এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প এবং আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেন লেবানন ইস্যুতে।
এরপর গত শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যম যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করে যে তিনি ইজরায়েলকে দূরে রাখতে পারবেন কিনা লেবাননে হামলা করা থেকে, তার জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ সেই ক্ষমতা আমার রয়েছে। উনি সম্মান করেন আমাকে এবং যা বলি তা শোনেন।” নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব ভালো বলে ট্রাম্প আরও বলেন, “ইজরায়েলের কোনও অস্তিত্ব থাকত না আমার সমর্থন ছাড়া।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দেন যে তিনি ট্রাম্পের কথামতো চলেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকার লোকজন মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটাই করেন যা আমি বলি। অন্যদিকে ইজরায়েলের কিছু লোক মনে করেন যে ট্রাম্পের কথামতো আমি চলি। কিন্তু দুটি ধারণাই ভুল।” তাঁর সাফ কথা, “ইজরায়েল ও আমেরিকা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। সব ব্যাপারে আমাদের মতামত এক নয়।”
এরপর মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েন সম্পর্কে নেতানিয়াহু বলেন, “ইজরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ইরানকে তৈরি করতে দেবে না। আমার সরকার কোনও আপস করতে রাজি নয় এই ব্যাপারে। পাশাপাশি ইজরায়েলের সেনা যতদিন দরকার হবে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে।” প্রশ্নই ওঠে না কারও কোনও চাপের মুখে লেবানন থেকে সেনা তুলে নেওয়ার। অর্থাৎ তিনি সরাসরি ট্রাম্পের বিরোধিতা না করলেও স্পষ্ট করে দেন যে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।



By














