নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে নয়া মোড়! যেই অভিযোগ তুলে দুই দেশের তরফ থেকে যৌথভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, তার প্রমাণ গেল না পাওয়া। বিষয়টি কি? রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু নজরদার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে।
ইরানের তরফ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি করার পাশাপাশি ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম তৈরির কাজ সফল হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে গত শনিবার সেখানে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। সেই আক্রমণে প্রাণ হারান দেশের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি চিন্তা বাড়িয়েছে একাধিক দেশের।
এই আবহে বিস্ফোরক দাবি করলেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। তাঁর বক্তব্য, পরমাণু বোমা তৈরি করার কাজের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে কোনও প্রমাণ না পাওয়া গেলেও সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণের ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং এটি চিন্তার বিষয় যে সেখানে আমাদের পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া হয়েছে পর্যবেক্ষণের কাজে। সুতরাং যতক্ষণ না ইরানের তরফ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সন্দেহ রয়েছে তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালীন আমেরিকার তরফ থেকে হামলা চালানো হয়েছিল ইরানের পরমাণু কেন্দ্র টার্গেট করে এবং বেশ কয়েকটি কেন্দ্র গুড়িয়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল যে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম তৈরির কাজ তারা করতে পেরেছে, যা অনেকটাই খতরনাক পিসফুল ইউরেনিয়াম কর্মসূচির থেকে। যদিও ইরানের তরফ থেকে প্রথম থেকেই দাবি করা হয় যে নিউক্লিয়ার ওয়েপন তৈরি করছে না তারা। মার্কিন শর্তে রাজি না হওয়ায় সেখানে একসাথে হামলা চালায় ইসরাইল-আমেরিকা।
সেটিই যুদ্ধ চালুর আরেক কারণ। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের আরেক প্রধান লক্ষ্য পরমাণু কেন্দ্রগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া। তেহরানের তরফ থেকে রবিবার দাবি করা হয় যে দুই দেশ তাদের পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এরপরই শোনা যায় যে নাতনাজ পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করার ফলে ছড়াতে শুরু করেছে রেডিওঅ্যাক্টিভ রেডিয়েশন। আক্রমণের কথা স্বীকার করলেও খতরনাক রেডিওঅ্যাক্টিভ রেডিয়েশন ছড়ায়নি বলে জানিয়েছিল আইএইএ। এবার তাদের বক্তব্য, কোনও প্রমাণ মেলেনি খামেনেইয়ের দেশে পরমাণু বোমা তৈরির। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By














