নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানে যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা মিডিল ইস্ট, যা চিন্তা বাড়িয়েছে গোটা বিশ্বের। সমগ্র বিশ্বের শিয়া মুসলিমদের অনেকেই খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রভাব পড়েছে শাহবাজ শরীফের দেশ, অর্থাৎ পাকিস্তানেও। সেখানেও জানানো হয়েছে প্রতিবাদ।
শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী সহ সেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিয়া মুসলিমরা মিছিল বার করেন। তা দেখেই হামলার আশঙ্কা তৈরি হয় ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে এবং এরপরই তাদের তরফ থেকে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়। শিয়া মুসলিমদের আজকের এই বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা পাকিস্তানে। এদিন বিশাল হইচই পড়ে যায় চারিদিকে।
শুক্রবার বিশাল সংখ্যার পুলিশি টহলদারির মাঝে বড় মিছিল বার করেছিলেন প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী হাতে, প্রয়াত সুপ্রিম লিডার, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ছবি নিয়ে। তাঁদের তরফ থেকে তোলা হয় ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’, ‘ইসরাইল মুর্দাবাদ’ স্লোগান। এমন পরিস্থিতিতে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা দেখে পুলিশের তরফ থেকে মার্কিন দূতাবাস ও বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় কন্টেনার। অন্যদিকে করাচিতেও বিক্ষোভকারীরা হাজির হন বাণিজ্য দূতাবাস থেকে চার কিলোমিটার দূরে। সেখানেও মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল সংখ্যার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির ধ্বংস করার লক্ষ্যে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। ইসরাইলের তরফ থেকে এটিকে নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রোরিং লায়ন এবং আমেরিকা নাম দিয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি। এই হামলার জেরে প্রাণ হারান দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ আরো অনেকে।
তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফ থেকেও। তারাও ইসরাইল ও মিডিল ইস্টে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। এখনো হামলা চালানো হচ্ছে দুই দেশের তরফ থেকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতে পরিণত করে ফেলছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফ থেকে এই ব্যাপারে অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।



By














