দেবজিৎ মুখার্জি: আরো চাপে পড়ল পাকিস্তান! সিন্ধু জল চুক্তির পর এবার ভারতের তরফ থেকে বন্ধ করা হতে চলেছে ইরাবতীর অতিরিক্ত জলও। স্বাভাবিকভাবেই এর জেরে যে ইসলামাবাদের অস্বস্তি বাড়ল, তা না বললেও বোঝা যায়। উপত্যকার জল সম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানান যে শাহপুর কান্দি বাঁধ তৈরি হচ্ছে কাশ্মীর-পাঞ্জাবের সীমান্তে ও তা শেষ হবে মার্চ মাসের ৩১ তারিখে এবং এরপর বন্ধ করে দেওয়া হবে পাকিস্তানে ইরাবতীর বাড়তি জল পাঠানো।
গতবছর এপ্রিল মাসের শেষের দিকে একটা ঘটনা গোটা ভারতবর্ষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাওয়ে ভারতীয় পর্যটকদের হত্যা করেন পাক সন্ত্রাসবাদীরা। তবে ভারত সরকারও ছেড়ে কথা বলেনি। শত্রুদেশ পাকিস্তানকে জবাব দিতে চালানো হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং এর ফলে গোটা পাকিস্তান ধ্বংসস্তূপের আকার নেয়। বহু সন্ত্রাসবাদি ও পাক সেনা নিহত হন।
তবে এতেই সবটা শেষ হয়ে যায়নি। পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে স্থগিত করে দেওয়া হয় সিন্ধু জল চুক্তি। স্বাভাবিকভাবেই এতে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের কাতর অনুরোধে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় ভারত সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু এখনও দুই দেশ একে অপরকে মাঝেমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েই চলেছে। দুজনেরই সাফ কথা, তারা একে অপরকে ছেড়ে কথা বলবে না।
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করাতেই চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। এবার সেই চাপ দ্বিগুণ হল ইরাবতীর অতিরিক্ত জলও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে। জম্মু ও কাশ্মীরের জল সম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা এই ব্যাপারে সবটি জানেন। কি কারনে করা হচ্ছে বা কবে শেষ হবে, সেই ব্যাপারে তিনি সবটা জানান। সম্প্রতি তিনি এক টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিয়ে বলেন।
জাভেদ আহমেদ রানার বক্তব্য, “পাকিস্তানকে ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল দেওয়া হবে না। এটা করতেই হবে বন্ধ।” এরপরই কারণটা তুলে ধরেন তিনি। জল সম্পদমন্ত্রী বলেন, “খরা অধ্যুষিত কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলা। আমাদের তরফ থেকে এই প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।” এমনটা হলে যে দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হবে, তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আগামীদিনে কি হয়। এর জন্য কি নতুন করে কোনও অশান্তি লাগবে? তা বলবে সময়।



By














