দেবজিৎ মুখার্জি: মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের বিতর্কিত ভোজশালা মামলায় বড় নির্দেশ দেওয়া হল সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে। কী সেই নির্দেশ? বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে সেই বিতর্কিত দরগা চত্বরে হিন্দু ও মুসলিম, দুই সম্প্রদায়ের মানুষই নিজেদের ধর্মীয় পুজো করতে পারবেন। অর্থাৎ জুম্মার নামাজ ও সরস্বতী পুজো, দুটোই করা যাবে সেখানে।
যেহেতু শুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারি, একই দিনে সরস্বতী পুজো ও জুম্মার নামাজ পড়েছে, তাই সুপ্রিম কোর্ট এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছে যে যেমন স্থানীয় মুসলিমদের জুম্মার নামাজ মিটলে সেই বিতর্কিত স্থান ছাড়তে হবে, তেমনি হিন্দুদেরও একই কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সরস্বতী পুজো মিটে গেলে তাদেরও সেই বিতর্কিত জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
এদিন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চের তরফ থেকে। এখানেই শেষ নয়, শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে এদিন এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজ্য ও জেলা প্রশাসন, দুজনকেই একে অপরকে সম্মান করার পাশাপাশি সাহায্য করতে হবে।
প্রসঙ্গত, এই বিতর্কিত ভোজশালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক চাপা উত্তেজনা রয়েছে। হিন্দুদের দাবি, সেই সৌধটি আসলে সরস্বতী মন্দির। আবার মুসলিমদের বক্তব্য, সেটি কমল মওলা মসজিদ। ২০০৩ সালে এএসআইয়ের তরফ থেকে জানানো হয় যে প্রতি মঙ্গলবার সেখানে হিন্দুরা পূজো করতে পারবেন এবং শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ পাঠ করতে পারবেন। তবে এই বছর সরস্বতী পুজো পড়েছে শুক্রবার ২৩শে জানুয়ারি। এরপরই এএসআইয়ের কাছে সেখানে পুজোর অনুমতি চায় ‘ভোজ উৎসব কমিটি’। আবার মুসলিমরাও দুপুর একটা থেকে তিনটের মধ্যে নামাজ পাঠের আবেদন জানান।
সেখানে শুক্রবার পুজোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট যায় ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ নামে এক সংগঠন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানায়। তাদের তরফ থেকে আর্জি করা হয় যে ২০০৩ সালে এএসআইয়ের তরফ থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা ছিল না যে শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমী পড়লে কি করা হবে। এরপর মামলাটি শুনে এই নির্দেশ দেয় আদালত। যদিও ২০১৬ সালে শুক্রবারে পড়েছিল বসন্ত পঞ্চমী এবং তখন বিক্ষোভ হয়েছিল।



By













