দেবজিৎ মুখার্জি: একসাথে দেশের তিন তিনটি রাজ্য থেকে উঠে এলো সাম্প্রদায়িক অশান্তির চিত্র! একটি ডাবল ইঞ্জিন সরকার শাসিত (বিজেপি শাসিত) মধ্যপ্রদেশ থেকে। সেখানে দুর্গামন্দির ভাঙচুরকে ঘিরে শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতি। বাকি দুটি যদিও কংগ্রেস শাসিত রাজ্য। কর্নাটকে মসজিদের পাশ দিয়ে শিবাজী জয়ন্তী মিছিল যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি লাগে। আরেকটি তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে। রমজানের নামাজকে ঘিরে উঠে আসে হিংসার চিত্র।
মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের সিহোরা তহশিলে বৃহস্পতিবার রাতে এক দূর্গামন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, যা ঘিরে লাগে বিশাল অশান্তি। একে অপরকে পাথর ছোড়া হয় দুই গোষ্ঠীর তরফ থেকে। ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয়দের বক্তব্য, “একই সময়ে মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি ও কাছের এক মসজিদে প্রার্থনা চলছিল এবং সেটাকে কেন্দ্র করেই অশান্তির সূত্রপাত।” যদিও তা উগ্র রূপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। লাঠিচার্জ করে তারা। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সেখানকার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, কর্নাটকের বাঘলকোটের অশান্তি প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে যে স্থানীয় পাঙ্ক মসজিদের পাশ দিয়ে একটি মিছিল যাচ্ছিল শিবাজী জয়ন্তী নিয়ে। হিন্দু গোষ্ঠীর তরফ থেকে জানানো হয় যে মসজিদের ভেতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। যদিও সুত্র মারফত জানা গিয়েছে যে মুসলিম গোষ্ঠীর তরফ থেকে আপত্তি জানানো হয় মিছিলে ডিজে বাজানো নিয়ে। কারণ তাতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল ‘মন্দির ইয়েহি বানায়েঙ্গে’। ঘটনায় পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ গোয়েল জখম হন মাথায় ইট লেগে এবং ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারফিউ করা হয়েছে বাঘলকোট শহরে।
তবে হায়দ্রাবাদে রমজানের প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তার জল বেশি দূর গড়াতে পারিনি পুলিশের সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এবার দেখার বিষয় যে এই ঘটনাগুলি থেকে কোন বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে কিনা। আগামীদিনে কি হয়, তার উপর নজর রয়েছে সেই রাজ্যগুলির নাগরিক থেকে শুরু করে গোটা ভারতবর্ষ। ঘটনাগুলিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বহু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গোটা দেশে। সেক্ষেত্রে দেখার ব্যাপার যে আগে কি হয়।



By














