দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব মেদিনীপুর: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঘিরে কলকাতায় প্রতিবাদে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তাতে হাত থাকতে পারে বিদেশি শক্তির বলে আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পুরো বিষয়টি তদন্তকারীদের তরফ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রবিবার তিনি জানান পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এসে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় বিক্ষোভ দেখায় সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি। তবে তাদের বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো-জলের বোতল। অন্যদিকে পুলিশও লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সাহায্য নেয় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে। আক্রান্ত হন বিক্ষোভকারী থেকে শুরু করে পুলিশ ও সাংবাদিক সকলেই। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এবার এই প্রসঙ্গে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এসে বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “ওটা বামেদের নয়, স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির মিছিল ছিল। পরে সেখানে যুক্ত হয় বামেরা। নিট আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা কোনওভাবেই যুক্ত নন এই ঘটনার সঙ্গে। আমরা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেছি।” সাংবাদিকের উপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা হামলা চালিয়েছিল সাংবাদিকদের উপর, তারা বিদেশী শক্তির মদতপুষ্ট হতে পারে।”
সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় এক ধৃতের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের যোগ মেলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস তো জামাতিদের পার্টি। ফলে জামাতির সঙ্গে যোগ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।” তাঁর সংযোজন, “আন্দোলনের নামে যারা গুন্ডাগিরি করেছে তারা জামাত, মৌলবাদী। ভারতবর্ষকে তারা দুর্বল করতে চায়, অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনের দ্বারাই দমন করা হবে ওদের।” প্রসঙ্গত, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এই অবধি মোট গ্রেফতারির সংখ্যা ১৪।



By










