দেবজিৎ মুখার্জি: মাদ্রাস হাই কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। কী সেই ধাক্কা? কারুরে রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ঠ হয়ে মৃতদের পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্তের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো আদালতের তরফ থেকে। কী বক্তব্য কোর্টের? আদালত জানিয়েছে, সাংবিধানিক সুরক্ষাকে অগ্রাহ্য করে চাকরি দেওয়া যায় না সহানুভূতির ভিত্তিতে।
সোমবার এই মামলার শুনানি হয়। তাতে বিচারপতি সিভি কার্তিকেয়ন ও বিচারপতি আর শক্তিভেলের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “সরকারের তরফ থেকে যে ৪১ জন মৃতের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অবৈধ।” বেঞ্চের সংযোজন, “সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী রাজ্যের এই নির্দেশ। এই অনুচ্ছেদ সমতা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেয় সরকারি চাকরিতে।”
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সিংহাসনে বসার পর ১০ই জুলাই প্রথম সরকারি সফরে কারুরে যান বিজয় এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ও পরিবারপিছু একটি করে চাকরির ঘোষণা করা হয়। নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয় ৩১টি পরিবারের সদস্যের হাতে। জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ওয়াচম্যানের মতো পদে সুবিধাভোগীদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল স্কুল, রাজস্ব দপ্তর, গ্রামীণ উন্নয়ন সহ নানা দপ্তরে। তবে সবটাই অস্থায়ী ছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠান এআইডিএমকে। দলের প্রবীণ নেতা আরবি উদয় কুমারের অভিযোগ, “রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যুবক সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বেশ পরিশ্রম করেন। এই সিদ্ধান্ত অন্যায় সেই পড়ুয়াদের প্রতি। সরকার নিয়ম না মেনে অস্থায়ী সরকারি চাকরি দিয়েছে কিছু লোককে, যা ঠিক নয়। রাজনৈতিক কারণে সরকারি চাকরি দেওয়া এক ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ভুল বার্তা যাবে রাজ্যের যুবকদের কাছে।” এই প্রসঙ্গে মাদ্রাজ হাই কোর্ট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।



By










