দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সোমবার রাতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর উত্তর কলকাতার এক বিশাল অংশজুড়ে ছেয়ে গেল এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার। এমনকী সেই পোস্টার দেখা যায় তাঁর বাড়ির কাছেও। তাতে তাঁকে ‘চোর-বেইমান’ বলা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পোস্টারের নিচে লেখা ‘প্রচারে: তাপস রায়, কুণাল ঘোষ’! ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর কলকাতা সহ গোটা বঙ্গ রাজনীতিতে।
রাতেই সেই বিতর্কিত পোস্টারগুলি চোখে পড়ে এলাকাবাসীর। তাতে লেখা – ‘বেইমান আর চোরটা/নয়নাদিদির বরটা’। নিচে লেখা – ‘প্রচারে: তাপস রায়, কুণাল ঘোষ’। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যেভাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে চলেছেন দুজনে, তাহলে সত্যিই কি এতে হাত রয়েছে দুই বর্ষিয়ান নেতার। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে দুজনের তরফ থেকে। তাপস রায় জানিয়েছেন, “পোস্টারের কথা কিছু জানি না। তবে যা বলছেন পোস্টারে লেখা, তার সঙ্গে একমত। দলের কর্মীরা, এলাকাবাসী জানেন, ওঁকে কোথাও কোনও কাজে পাওয়া যায় না। সকলেই এনিয়ে ক্ষুব্ধ।” কুণাল ঘোষও জানিয়েছেন, “এর সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই।”
প্রসঙ্গত, তৃণমূলে থাকাকালীনই তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাপস রায়, তখন এর জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছিলেন কুণাল ঘোষ। এরপর কলকাতা উত্তর জেলা তৃণমূলের অন্দরেও দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এই বিষয়ে তর্কাতর্কিতে জড়ান দলের সদস্যরা। এরপর চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনি এনসিপিআইতে যোগ দেন। সোমবার রাতে তিনি নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। তারপরই গোটা উত্তর কলকাতাজুড়ে ছেয়ে যায় তাঁকে কটাক্ষ করে পোস্টার। যদিও কুণাল ঘোষ ও তাপস রায় এর সঙ্গে যোগ অস্বীকার করেছেন। এবার দেখার বিষয় আগে কী হয়।



By











