দেবজিৎ মুখার্জি: পিনারাই বিজয়নের কেরলের নাম পাল্টানো নিয়ে এবার কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিলেন কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী সাংসদ শশী থারুর। কী বললেন তিনি? বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্য, কেরলকে এমনিতেই মালায়ালমে বলে কেরলম এবং সেক্ষেত্রে ইংরেজিতেও আলাদা করে সেই নাম নিয়ে আসা অর্থহীন। এখানেই শেষ নয়, শশী থারুর এও দাবি করেন যে কেরলের জন্য কোনও প্রকল্প আলাদা করে দেওয়া হয় না, কিন্তু সবুজ সংকেত দিচ্ছে নাম পাল্টানোর প্রস্তাবে।
বহুদিন আগেই নাম বদলের দাবি তুলে প্রস্তাব পাশ করানো হয় কেরল বিধানসভায়। সেই রাজ্যের শাসকদলের দাবি, কেরলের পরিবর্তে সেই রাজ্যের নাম রাখতে হবে কেরলম কারণ তাতে মালায়ালাম ভাষার ছোঁয়া রয়েছে বলে। পাশাপাশি রয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতির যোগও। এই উপলক্ষে দুবার কেরল বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করা হয়েছিল। তবে প্রথমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রাখা দরকার নাম পাল্টানোর প্রস্তাবে।
তা মেনেই ২০২৪ সালে জুন মাসের ২৫ তারিখে পাশ করা হয় দ্বিতীয় প্রস্তাবটি। তবে নির্বাচন দোরগোড়ায় থাকাকালীন সেই প্রস্তাবে হঠাৎ সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফ থেকে। এরপর কেরল বিধানসভায় সেই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতি পাঠাবেন বিল রূপে এবং সেটা পাশ হওয়ার পর সেই রাজ্যের নাম পাল্টানোর কাজটি শেষ হয়ে যাবে।
এই বিষয়টি নিয়ে এবার কেন্দ্রকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। এদিন তিনি বলেছেন, “কেরলম ইতিমধ্যেই রয়েছে মালায়ালমে। তাই আমার জানা নেই এখন কি লাভ হবে ইংরেজিতে একটি মালায়ালম শব্দ এনে। সরকারের তরফ থেকে আমাদের একটা এইমস বা কোনও নয়া প্রতিষ্ঠান দেওয়া হয়নি। কোনও প্রকল্পও দেয়নি আমাদের কেন্দ্রীয় বাজেটে। কিন্তু যখন নাম পাল্টানোর প্রসঙ্গ এলো, তখন তারা ইচ্ছুক হয়ে গেল এটি অনুমোদন করতে।”
যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে। কারণ সাম্প্রতিককালে একাধিকবার তিনি কেন্দ্রের সমালোচনার বদলে প্রশংসা করেছেন। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে যে হাত শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরই কি নিজের মত বদলেছেন শশী থারুর? এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।



By













