• Home
  • জেলার খবর
  • “তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে” বামেদের তুলোধোনা তসলিমার

“তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে” বামেদের তুলোধোনা তসলিমার

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সিপিএম আমলে বিতাড়িত হওয়ার প্রায় ১৯ বছর পর বাংলায় ফিরতে চলেছেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট তিনি কবিতা পাঠ করবেন রবীন্দ্রসদনে এক মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের অনুষ্ঠানে। তার আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট করে অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানিয়ে তিনি তুলোধোনা করলেন বামেদের। পোস্টে লেখা, “পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখা মানেই নাকি আমি হিন্দুত্ববাদী, আমি বিজেপি আর এস এস। 

আমি  বাম সরকারের আমন্ত্রণে বহুবার কেরালায় গিয়েছি। সেখানকার বাম নেতারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, সম্মান জানিয়েছেন, আমার জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। তখন কলকাতার এই বাম নেতারা কি আমাকে ‘বামপন্থী’ বলে গালি দিয়েছিলেন, নাকি আনন্দে চুমু খেয়েছিলেন? তখন তো তাঁরা দিব্যি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন।  আমার বেলায় তাঁদের চোখ কখনও কি খোলে?

আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যে প্রচার কেন? ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর মাত্র দু’দিনের জন্য কলকাতায় যাচ্ছি—তাতেই তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে!

বামফ্রন্ট সরকার আমাকে কলকাতা থেকে তাড়িয়েছিল। পরবর্তী তৃণমূল সরকারও আমাকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেয়নি। শুধু তা-ই নয়, আমার লেখা মেগাসিরিয়ালের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করেছে, আমার বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। তখন বাংলার তথাকথিত প্রগতিশীলেরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কি একটি শব্দও খরচ করেছিলেন? করেননি।

আসলে আমরা যারা মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চাই, মুসলিমদের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে চাই, ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত করতে চাই, নারীর সমানাধিকার ও মানবাধিকার চাই, বৈষম্যমূলক ইসলামী আইনের বদলে সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রণীত আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই—বাম নেতাদের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন না।

তাঁরা চান মুসলিম সমাজ চোদ্দশো বছর আগের নারীবিদ্বেষী, ধর্মান্ধ ও অসহিষ্ণু সমাজ হিসেবেই পড়ে থাকুক। মুসলিম সমাজের সংস্কার যাঁরা চান, তাঁদের তাঁরা শত্রু মনে করেন; এবং আমরা সকলেই জানি ইসলামী মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই।

এই কারণেই আমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরা নিয়ে তাঁদের এত রাগ, এত ক্ষোভ, এত মিথ্যে  প্রচার।

এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?

কিছু বাম আঁতেলকে দেখছি আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে। বাংলাদেশি জিহাদিদের মতো তাঁরা বলছেন,  আমি নাকি সাহিত্য রচনা করতে জানি না, আমার বইগুলো নাকি থার্ড ক্লাস। যে করেই হোক, আমার কিছু একটা  দোষ তাঁদের খুঁজে বের করতেই হবে।

ধরে নিলাম, তাঁদের কথাই সত্য—আমি ভালো সাহিত্যিক নই, আমার সব বইই থার্ড ক্লাস। তাই বলে কি আমার মাথার মূল্য ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত? আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা, এমনকি গোটা বাংলা থেকে নির্বাসিত করা বৈধ? একজন লেখকের সাহিত্যমানের বিচার করবেন পাঠক ও সময়। কিন্তু লেখাটি উৎকৃষ্ট হোক বা নিকৃষ্ট—তার জন্য লেখককে হত্যার হুমকি দেওয়া বা নির্বাসনে পাঠানো কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মুক্তচিন্তা, উদারতা ও সহিষ্ণুতা—এসবকে এই বাম আঁতেলরা নিজেদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেন না। আসলে আমার একটিই দোষ—তাঁরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন, আমি করি না। ইসলামের সমালোচনা করার অধিকারকে তাঁরা বাক্‌স্বাধীনতা বলে মানতে পারেন না। তাঁদের যাবতীয় উদারতা ইসলামের দরজায় এসে শেষ হয়ে যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top