দেবজিৎ মুখার্জি: ইরান ও আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে, তা বলাই বাহুল্য। বলা ভালো, গোটা বিশ্ব এই যুদ্ধ নিয়ে বেশ চিন্তিত। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত সহ একাধিক দেশ, যখন ইরানের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অয়েল আর্টেরি হরমুজ স্ট্রেট বন্ধ করে দেওয়ার। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক আটকে পড়েছেন তার কাছে এবং দেশের ৩৭টি জাহাজ আটকে। জানা যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে একটি কুইক রেসপন্স টিম তৈরি করা হয়েছে পরিবহন মন্ত্রকের তরফ থেকে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে জাহাজগুলি আটকে রয়েছে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন সমুদ্রে। তা গাল্ফ কান্ট্রিগুলি থেকে ইমপোর্ট করতে গিয়েছিল অপরিশোধিত তেল, লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোপণ্য। যুদ্ধের কারণে ইরানের তরফ থেকে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজগুলি আটকে পড়ে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চিন্তাপ্রকাশ করা হয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে। তারা কেন্দ্রের কাছে হস্তক্ষেপের দাবি করেছে। জানা গিয়েছে, এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে দেশের দুই নৌকর্মের মৃত্যু হয়েছে।
কেন হরমুজ বন্ধ করায় ভারতের মাথায় চিন্তার হাত পড়েছে? ইরান থেকে খুব একটা বেশি তেল ভারত না কিনলেও তাদের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি তেল কিনতে হয় অন্য কোথা থেকে, যার প্রায় অর্ধেক আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দিনে প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ্য ব্যারেল তেল আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েত, ইত্যাদি দেশগুলি থেকে। পাশাপাশি, সিএনজি নিডের প্রায় ৬০ শতাংশও এখান দিয়ে আসে। সুতরাং তা আটকালে পেট্রোপণ্য জোগাড়ে চাপ পড়বে।
অন্যদিকে, সার সহ অজস্র পরিমাণ পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি সাপ্লাই চেনে ধাক্কা খায়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় চাপ পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে যদি সাপ্লাই চেনে ধাক্কা খায়, তাহলে ভারতকে আমেরিকার উপর নির্ভর করে থাকতে হবে এবং তাহলে তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট আমদানি বাড়তে পারে, যা মোটেই ভালো হবে না ভারতের জন্য।



By













