• Home
  • বিনোদন
  • শোম্যান রাজ কাপুরের আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন রফি

শোম্যান রাজ কাপুরের আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন রফি

Image

হাফিজুর রহমান: তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন আজ থেকে ৪৬ বছর আগে। অন্য কেউ হলে তাঁর স্মৃতি মন থেকে মুছে যেত, কিন্ত মহম্মদ রফির উপর শ্রোতাদের আকর্ষন দিনে দিনে বাড়ছে। এখন লোকে দেখে বেশি শোনে কম। বড় লেখা পড়ার সময় নেই, সেই জন্য লেখা ছোট হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট মিনিটে নেমে এসেছে, আরও কম ও ৩০-৪৫ সেকেন্ডে নেমে এসেছে। এরকম অস্থির ওলোট-পালোট করা সময়েও কালের কষ্ঠি পাথরে মহম্মদ রফি সসম্মানে উত্তীর্ণ।

একটি ছোট কাহিনি দিয়ে শুরু করছি, ১৯৬০এর মাঝামাঝি রাজ কাপুরের সঙ্গম ফিল্মের একটি পার্টিতে তুমুল নাচ-গান চলছে। সঙ্গে সুন্দরিরা ফিল্মি নায়কদের কৃপা লাভের জন্য ঘুরঘূর করছে। একসময় নায়ক রাজকাপুর নেশার ঘোরে মহম্মদ রফিকে ফোনে করে আসতে অনুরোধ করলেন। রফি এসব পার্টিতে একদম যেতেন না। উনি জলে থেকেও গায়ে জল লাগতে দেননি। রাজ কাপুর ডেকেছেন যখন, তাই নিশ্চয় কোনও দরকার আছে ভেবে তিনি যান সেখানে। ওখানের দৃশ্য দেখে তাঁর চোখ কপালে উঠল। নারীরা নিজেদের শরীরের প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মদের গ্লাস হাতে অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজ কাপুর রফিকে গাইতে আদেশ করেন।

রফি শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে গান গাইতে অস্বীকার করে নিজের রুম ফিরে গেলেন। শোম্যান রাজ কাপুরের সম্মানে আঘাত লাগল। ইন্ডাস্ট্রির সবাই যখন তাঁর এক ইশারায়……. তখন রফি সবার সামনে তাঁর কথা অমান্য করার দুঃসাহস দেখায় কীভাবে। তিনি ঠিক করলেন তাঁর কোনও ফিল্মে রফি গান করবেন না। খবর গেল ফিল্মের নায়ক রাজেন্দ্র কুমারের কাছে রফির গান তাঁর কেরিয়ার কীভাবে এগিয়ে দিয়েছে, সেটা তিনি জানতেন। তাই রফি তাঁর গান না গাইলে তিনি ফিল্ম থেকে সরে যাবেন, এই হুমকির কাছে পিছু হটতে হল রাজ কাপুরকে। রফির কণ্ঠের সেই এক মাত্র গান বকি সব গানকে পেছনে ফেলে সেরা গান হযেছিল। কি জানতে ইচ্ছে করছে কোন গান? গানটি হল ‘ও মেরা প্রেমপত্র পড়কে তুম নারাজ না হোনা’। বাকিটা ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top