• Home
  • দেশ
  • “নৈতিকভাবে স্পষ্ট হতে হবে” খামেনেইর হত্যা প্রসঙ্গে মোদির নীরবতাকে প্রশ্ন রাহুলের

“নৈতিকভাবে স্পষ্ট হতে হবে” খামেনেইর হত্যা প্রসঙ্গে মোদির নীরবতাকে প্রশ্ন রাহুলের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যা প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর পর এবার মুখ খুললেন তাঁর পুত্র, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী। তিনিও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ব্যাপারে চুপ থাকা নিয়ে। কংগ্রেস সাংসদের বক্তব্য, নৈতিকভাবে স্পষ্ট হতে হবে দেশকে। শুধু তাই নয়, রাগা এই প্রশ্নও তোলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই হত্যাকে সমর্থন করেন কিনা। 

আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানে যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সেই দেশের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। তবে এই ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত মুখ খোলেননি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তা নিয়ে সোনিয়া গান্ধী কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেন কাশ্মীরের কথা। তাঁর বক্তব্য, “১৯৯৪ সালে কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব তুলে ধরেছিল অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোওপারেশন (ওআইসি)। কিন্তু তখন বন্ধু ইরান এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তা আটকে দেয়। তখন প্রাইমারি স্টেজ চলছিল দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের। যদি আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হতো, তাহলে আরো জটিল হয়ে উঠতে পারত ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান।” সোনিয়া গান্ধী দাবি করেন যে এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে ভারতের অবস্থান ও চুপ থাকা যথেষ্ট চিন্তাজনক।

মোদি সরকারকে আক্রমণ করে সোনিয়া গান্ধী আরো বলেন, “বর্তমান সরকারের এটা মনে রাখা উচিত যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারী বাজপাই ২০০১ সালের এপ্রিলে তেহরান সফরের সময় ভারত-ইরানের মধ্যে গভীর সম্পর্কে কথা নতুন করে তুলে ধরেছিলেন। মনে হচ্ছে সেই স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় বর্তমান সরকারের নজরে। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে মোদি সরকারের চুপ থাকা নিরপেক্ষতার বার্তা দিচ্ছে না। বরং তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে আসছে। এটি বিশাল প্রশ্ন তোলে আমাদের দেশের ফরেন পলিসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।”

এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যম থেকে তিনি এই যুদ্ধ নিয়ে একটি পোস্ট করেন এবং এর জেরে ভারতীয়দের সমস্যায় পড়ার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইরানে হামলা এবং ইরানের দ্বারা করা হামলা, দুটোরই তিনি নিন্দা জানান। এরপরই তিনি  লেখেন, “নৈতিকভাবে স্পষ্ট হতে হবে ভারতকে। আমাদের স্পষ্টভাবে কথা বলার সাহস থাকা উচিত আন্তর্জাতিক আইন ও মানব জীবনের ডিফেন্সে। আমাদের ফরেন পলিসি ভিত্তি করে সার্বভৌমত্ব এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর এবং তা থাকতে হবে ধারাবাহিক।” এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল লিখেছেন, “ওনাকে অবশ্যই কথা বলতে হবে। উনি কি একজন রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকে সমর্থন করেন ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে ডিফাইন করার জন্য? নীরবতা এখন ভারতের অবস্থানকে বিশ্বে হ্রাস করছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top