দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “আসলে এটা পুরো দুনিয়া আমার কাছে” ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ম্যাচের সেরা হয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি জানান যে যেদিন থেকে খেলতে শুরু করেছেন এবং দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই তিনি মনে করেন যে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
সঞ্জু বলেন, “আসলে এটা পুরো দুনিয়া আমার কাছে। আমি মনে করি যেদিন থেকে আমি খেলতে শুরু করেছি, স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি দেশের হয়ে খেলার, আমি মনে করি সেদিন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম এই দিনটির জন্য এবং খুব কৃতজ্ঞ।” এর সঙ্গে নিজের উত্থান-পতনে ভরা সফরের কথাও তুলে ধরেন সঞ্জু। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে সন্দেহ করে চলেছিলাম। কিন্তু আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সর্বশক্তিমান প্রভুর প্রতি আমাকে আজ আশীর্বাদ করার জন্য।”
প্রসঙ্গত, রবিবার ম্যাচটি খেলা হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে। এদিন টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুটা ভালই হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। নবম ওভারে প্রথম উইকেটটি পড়ে তাদের। বরুণ চক্রবর্তীর বলে ৩২ রানে আউট হন দলের অধিনায়ক শেহ হোপ। এরপর দ্বাদশ ওভারে পরপর দুটি উইকেট হারায় তারা। দুটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে তোলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার জাস্পৃত বুমরাহ। ২৭ রান করে আউট হন হিটমায়ের এবং ৪০ রানে আউট হন চেজ। ১৫তম ওভারের শুরুতেই ১৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান শারফেন রুদারফোর্ড। শেষ পর্যন্ত ৩৪ এবং ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন রোভমান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯৫।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হলেও পাঁচ ওভারের মধ্যেই দুটি উইকেট হারায় তারা। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশান, দুজনেই ১০ রান করে আউট হয়ে যান। অভিষেককে আউট করেন আকিল হোসেন এবং ঈশানকে জেসন হোল্ডার। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে দলের আরেক ওপেনার সঞ্জু স্যামসন একটি বড় পার্টনারশিপ গড়েন। দলের স্কোর যখন ৯৯ তখন ১৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এরপর তিলক বর্মার সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন সঞ্জু। দুজনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর আক্রমণ বাড়ায়। ১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিলক বর্মা। হার্দিক পান্ডিয়া ১৭ রান করে আউট হন। এরপর শিবম দুবেকে নিয়ে দলকে ফিনিশ লাইন পার করান সঞ্জু স্যামসন। শেষ ওভারে প্রথম বলে ছয় এবং পরের বলে চার মেরে দলকে ম্যাচ জেতান তিনি। সঞ্জু অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে এবং দুবে নটআউট থাকেন ৮ রানে। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় সঞ্জু স্যামসনকে।



By














