দেবজিৎ মুখার্জি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মাকে পাল্টা দিল কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ। অসম বিজেপি সুপ্রিমোর মিয়াঁ মন্তব্যের পাল্টা দেওয়া হল দুজনের তরফ থেকে। এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল দাবি করেছেন যে হিমান্তকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস মুখপাত্র জেহেরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী সকল দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্থদের অপমান করেছেন।
এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যের এটা। আমি হাতজোড় করে বলতে চাই যে উনি যেন দয়া করে ওনার কথা ফিরিয়ে নেন। নাহলে আপনার ভোট ডুবিয়ে দেবে মিয়াঁরা।” এর সঙ্গে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, “কোনকিছুতে ভয় নেই মিয়াঁদের। আজ আপনি মিয়াঁ মুসলিমদের অপমান করছেন ক্ষমতার লোভে। এভাবে কোনও সম্প্রদায়কে অপমান করা যায় না।” তাঁর আরো হুঁশিয়ারি, এবার অসমে ভোটে বড় ব্যবধানে পরাজিত হবেন হিমান্ত।
অন্যদিকে, রাজ্যে কংগ্রেসের মুখপাত্র জেহেরুল ইসলামও নিজের মত জানিয়েছেন এই বিষয়ে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কোনও সম্প্রদায়কে অপমান করেননি এক মিয়াঁ রিকশাওয়ালাকে ৫ টাকার জায়গায় ৪ টাকা দিতে বলে। উনি সকল দরিদ্র ও দুর্দশা নিয়ে বাঁচা মানুষদের অপমান করেছেন, যাঁরা রিক্সা চালান অর্থ উপার্জনের জন্য।” তিনি বুঝিয়ে দেন যে কতটা অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন অসম বিজেপি সুপ্রিমো।
উল্লেখ্য, হিমান্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, “আমাদের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে ভোট না দিতে পারে মিয়াঁরা। যদিও এটা প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ ছিল। যখন রাজ্যে এসআইআর হবে, তখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে ৪-৫ লক্ষ মিয়াঁ।” বলে রাখা ভালো, রাজ্যে এসআইআর চালু না হলেও কমিশনের তরফ থেকে শুরু করা হয়েছে এসআর এবং ইতিমধ্যেই দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাদ পড়েছে তাতে।
তবে এখানেই থামেননি হিমান্ত। অসম বিজেপি সুপ্রিমো একহাত নেন কংগ্রেসকেও। হাত শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যতই আমাকে হেনস্তা করুক কংগ্রেস, আমাদের কাজ হল সমস্যায় ফেলা মিয়াঁদের।” তিনি এটাও বলেন যে “যদি ওরা সমস্যায় না পড়ে, তাহলে চলে আসবে দুলিয়াজান, তিনসুকিয়ায়। কয়েকদিন আগে হাতে এসেছে তিনসুকিয়ার এক তালিকা জমি হস্তান্তরের। বিক্রি করা হচ্ছে হিন্দুর সম্পত্তি, কিনে নিচ্ছে মিয়াঁ মুসলিমরা। এখনো যদি না করে খেয়াল, কখন করব।”



By













