দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: বেলডাঙা অশান্তি ঘটনার তদন্ত করতে শনিবার সকালে সেখানে পৌছালেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) এক তদন্তকারী দল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর তাদের ইউপিএ আইনের নানা ধারায় মামলা দায়ের করা হয় এবং এরপর তদন্তের দায়িত্ব নেওয়া হয়। শুক্রবারই একটি মামলা দায়ের করেছে তারা বলে খবর।
এদিন সকালে তদন্তকারীরা বেলডাঙা থানায় গিয়ে বৈঠক করেন মুর্শিদাবাদ পুলিশের আধিকারিকদের সাথে এবং সেখান থেকে ৩ জন আধিকারিক যান বহরমপুরে। পুলিশ সুপারের অফিস থেকে একাধিক নথি জোগাড় করে তাঁরা যান মুর্শিদাবাদ জেলা সিজেএম আদালতে। পুলিশ সূত্রে খবর, মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তুলে দেওয়া হবে আধিকারিকদের হাতে। শুধু তাই নয়, নথি দেওয়া-নেওয়া কাজ শেষ হলে তাঁরা দাঙ্গাস্থলগুলিতেও যেতে পারেন বলেও খবর। এনআইএ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং সেই কাজও চলছে।
প্রসঙ্গত, ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। রেল-সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে টায়ার জ্বালানো সবটাই দেখা যায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের বক্তব্য, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। এমনকি জল গড়ায় আদালত পর্যন্তও। হাই কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয় যে দরকার পড়লে কেন্দ্র এনআইএর সাহায্য নিতে পারে তদন্তের ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এটাও জানানো হয় যে রাজ্য চাইলে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারবে কেন্দ্রের থেকে। এরপরই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়। কী তথ্য উঠে আসে? এটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।



By










