নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি, প্রাক্তন পাক তারকা পেসার মহাম্মদ আমির যা বলেছিলেন, সেটাই মিলে গেল। সুপার এইটে একেবারে হাবুডুবু খেলো সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। রবিবার তাদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭৬ রানে ম্যাচ জিতে জয় দিয়ে সুপার এইট শুরু করল তারা। এই ম্যাচে ভারতকে রীতিমত দুর্বল দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং বিভাগের সামনে। বলা ভালো, কেউই তেমন দাগ কাটতে সফল হননি শিবম দুবেকে বাদ দিয়ে। ভারতের এই পরাজয়ের পরই গোটা পাকিস্তান জুড়ে চলছে উল্লাস। সেই দেশের বহু ক্রিকেটপ্রেমী এমনটাও দাবি করেছেন যে আমিরের কথাতেই ভেঙ্গে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
সম্প্রতি, প্রাক্তন পাক তারকা পেসার মহাম্মদ আমির দাবি করছেন যে টিম ইন্ডিয়া তাদের গ্রুপে প্রথম দুইয়ে থাকতে পারবে না। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, “পাকিস্তান ম্যাচ বাদ দিয়ে বাকি সব ম্যাচেই ভারতের ব্যাটিং বিভাগ ব্যর্থ হয়েছে। আর যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা খেলছে, তাতে তারা যেকোনও দলকে পরাজিত করতে পারে।”
আমিরের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেমিফাইনালে যাবে। আবার পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়া নিয়েও তিনি একপ্রকার নিশ্চিত। তাছাড়া কয়েকদিন আগে আমির টিম ইন্ডিয়ার তরুণ তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মাকে নিম্নমানের স্লোগারের তকমা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে যদিও ব্যাট হাতে তেমন রান পাননি অভিষেক।
সেই কথাটাই মিলে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে রীতিমতো তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে গেল ভারতের ব্যাটিং অর্ডার। বল হাতে প্রথমদিকে ভালো বোলিং করলেও পরে বোলিং বিভাগের সাথে একেবারে ছেলে খেলা করে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং বিভাগ। ব্যাট হাতে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। সবমিলিয়ে, সূর্যকুমার যাদবদের বিরুদ্ধে এক ডমিনেটিং ভিকট্রি নিজেদের নামে করে নেন এডেন মার্করামরা।
ভারতের এই পরাজয়ের পর পাকিস্তানি সমর্থকদের উন্মাদনা একেবারে আলাদা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এক নেটিজেনের বক্তব্য, “একটা সময়ে ভারতকে বল হাতে কাঁদিয়ে বেড়াতেন আমির। এখন স্টুডিওতে বসে নিজের বক্তব্যে তাদের মনবল ভেঙে দিচ্ছেন।” এমনকি দলের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার মহাম্মদ ইউসুফ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আমিরকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “ভারতের অবস্থা খুবই খারাপ। ওদের এবার রেহাই দাও আমির।” পাশাপাশি, টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার প্রশংসা ও করেছেন প্রাক্তন পাক তারকা। অনেকে তাদের সহমত জানালেও আবার দাবি করেছেন যে এত সহজে ভারতকে ভাঙা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, রবিবার ম্যাচটি খেলা হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। সেদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এডেন মার্করাম। তবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় তারা। তবে এরপরই একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়েন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এরপর ঝড়ের গতিতে রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৭। সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মিলার। এছাড়া ব্রেভিস করেন ৪৫ এবং স্টাবস অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে। টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের মধ্যে তিনটি উইকেট পান বুমরাহ, দুটি আর্শদীপ এবং একটি করে বরুণ ও শিবম।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। দলের কোন ব্যাটারই ব্যাট হাতে তেমন দাগ কাটতে সফল হননি। সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন শিবম দুবে। এছাড়া কেউই তেমন ভালো ইনিংস তুলে ধরতে সফল হননি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান মার্কো ইয়ানসেন। এছাড়া তিনটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন কেশব মহারাজ। দুটি উইকেট পান কর্বিন বশ এবং একটি এডেন মার্করাম। ব্যাট হাতে প্রভাবশালী ইনিংস খেলার জন্য ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় ডেভিড মিলারকে।



By














