দেবজিৎ মুখার্জি: আদনান শামির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের নৈশভোজ বিতর্কে এবার হাত শিবিরকে পাল্টা দিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। শুধু কংগ্রেসকে নয়, শিব সেনার (উদ্ভব শিবির) সঞ্জয় রাউতকেও তিনি পাল্টা দেন কারণ তিনিও সমালোচনা করেছিলেন বলে। কী বললেন আদনান? কংগ্রেসকে তিনি মনে করিয়ে দেন নেহেরুর আমলের কথা। পাশাপাশি সঞ্জয় রাউতকে জঘন্য হারমোনিয়াম বাজানো তুলে খোঁচা দেন।
শতবর্ষ উপলক্ষে আরএসএসের তরফ থেকে একটি দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বাণিজ্যনগরী মুম্বাইতে। সেখানে বলিউডের একাধিক বড় শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই ছিলেন আদনান শামি। সেই ছবি সামনে আসতেই আক্রমণ করা হয় মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের তরফ থেকে। এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়ে আওয়াজ তোলে হাত শিবির এবং তীব্র নিন্দা করে সংঘ ও তাদের প্রধানের।
তারা লেখে, “পাকিস্তানি বায়ুসেনার পাইলট ছিলেন আদনান শামির বাবা আরশাদ শামি খান। পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটি উনি ধ্বংস করেছিলেন হামলা চালিয়ে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময়। তাঁরই পুত্রের সঙ্গে মোহন ভগবত একই টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন। পরিষ্কার দেশদ্রোহীতা আরএসএসের এই কাজ।” যদিও এই অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি সংঘ ও আদনান। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী লেখেন, “একটা অসাধারণ দিন কাটালাম সংঘের প্রধান মোহন ভগবতের সঙ্গে। অনেকক্ষণ কথাবার্তায় উনি ভেঙে দিলেন আমার মধ্যে থাকা অজস্র মিথ ও ভুল ধারণা।” সংঘ প্রধানের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “উনি বেশ ভদ্র এবং ব্যক্তিত্ববান মানুষ।”
তবে এবার বিষয়টি নিয়ে আদনান শামি পাল্টা দিলেন কংগ্রেস ও সঞ্জয় রাউতকে। এক্স হ্যান্ডেল থেকে তিনি লেখেন, “মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সমস্ত সম্মানিত দেশপ্রেমিকদের বলছি, দুঃখজনক বিভাজনের জন্য যে আপনাদের পূর্বপুরুষরা দায়ী ছিলেন, তার জন্য যদি এখন আপনাকে কেউ দোষারোপ করে, তাহলে সেটা কি হবে খুব যুক্তিযুক্ত? যাই হোক তবু আজ একটি বৈধ দেশের স্বীকৃতি দিলেন আপনারা পাকিস্তানকে। একসময় যা ভারত ছিল, এখন পাকিস্তান……। তাই এগোন কথা না বাড়িয়ে।”
আরেক পোষ্ট থেকে আদনান শামি পাল্টা দেন সঞ্জয় রাউতকে। তিনি লেখেন, “আমার প্রিয় সঞ্জয়, তুমি যে বিশ্রীভাবে হারমোনিয়াম বাজাও, তার জন্য খুব অন্যায় হবে তোমার বাবাকে দোষারোপ করা। তুমি আঙুল তুলছো ভুল জায়গায়। কিন্তু আমি খুশি হব যদি তোমায় ঠিকটা শেখাতে পারি। রাজনীতিবিদ নই আমি। আমি একজন শিল্পী, যে ভালোবাসা ছড়ায় গানের দ্বারা। তাই আমাকে যারা ভালবাসে, তাদের সকলকে আমি ভালোবাসবো। অবশ্য তোমাদেরও আমি ভালোবাসি। তাই পরেরবার তোমরাও চেষ্টা করো ভালবাসার। এইটুকুই। জয় হিন্দ ও জয় মহারাষ্ট্র।”



By














