দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে আদালতের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই ব্যাপক হইচই পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিষয়টি ঘিরে। বলা ভালো, দিন যত যাচ্ছে, ততই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ অন্য মাত্রায় যাচ্ছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলের। কী হতে চলেছে এবার, সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে গোটা রাজ্যে।
ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি দিনদিন কঠিন হয়ে উঠছে তৃণমূলের জন্য। একদিকে দল ভাঙন, একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ সৃষ্টি সহ দলের বিভিন্ন নেতাদের গ্রেফতারি ও হেনস্তা, আবার কোথাও দলের অন্দরের অসন্তোষ দলের নেতাদের জনসম্মুখে আনা। সব মিলিয়ে, বাংলার মসনদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই আবহে দলের সমস্যা বাড়িয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস চিঠি দিয়েছিলেন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শাখাকে এবং আবেদন জানিয়েছিলেন দলের সব অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করার। সেই চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূলের ১০ জন বিধায়ক লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানান পুলিশের কাছে। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দায়ের হওয়া এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ডেবিট ফ্রিজের নির্দেশ দেয় রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল।
দলের তরফ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করা হলে তিনি তিনপাতার এক চিঠিতে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। সুত্র মারফত খবর, প্রাক্তন মন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন যে নানা সময়ে তথ্য না দিয়েই সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে চেকে। কী কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দলের তহবিলের টাকা, তা জানেন না তিনি। সেই কারণেই তিনি চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে আরও স্বস্তি বাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে আদালত যায় তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের তরফ থেকে। আদালত সূত্র মারফত খবর, মামলা শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী বুধবার। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আদালত কী বলে এবং জল কতদূর গড়ায়। এই পর্ব কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে সমগ্র রাজ্যবাসী সহ গোটা রাজনৈতিক মহল।



By










