দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে যদি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এই দুর্দিনে গ্রহণ করে কংগ্রেস নেতৃত্ব, তাহলে কি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে? এই মুহূর্তে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রদেশের একাংশের মতে এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নেওয়া মানে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় নিজের গায়ে মাখার সমান। দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা আব্দুল মান্নানের সাফ কথা,”কেউই মমতার কোনও কার্যকলাপের উপর বিশ্বাস করতে পারেন না। ভারতের রাজনীতিতে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে। সবাই জানে, সোনিয়া গান্ধীও জানে। তিনি এও বলেছিলেন যে মমতার থেকে বামেদের উপর বেশি ভরসা করা যায়।”
অন্যদিকে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, তথা প্রাক্তন সাংসদ, অধীর রঞ্জন চৌধুরী গতকাল বলেছেন “আমার সঙ্গে তো কোনও ব্যক্তিগত বিরোধিতা নেই তৃণমূলের। আমার সঙ্গে কোনওদিন কোনও ব্যক্তিগত বিরোধিতা ছিল না তৃণমূল নেতা, নেত্রী, তৃণমূল পার্টির। আমার পার্টিকে তৃণমূল শেষ করতে চেয়েছে, আমি রক্ষা করতে চেয়েছি। চেষ্টা করেছি মোকাবিলা করার। এটা আমার রাজনৈতিক ধর্ম বলে মনে করেছি।”
বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, যাঁরা হাত শিবিরে আসবেন, তাঁদের আগে রাহুল গান্ধীকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে মেনে নিতে হবে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “কারোর গায়ে যদি দুর্নীতির দাগ লেগে থাকে এবং কেউ যদি কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান নিজেকে বাঁচাতে, তাহলে খোলা হবে না তাঁর জন্য দরজা।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










