দেবজিৎ মুখার্জি: সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় বড় জয় পেলেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের পরিষ্কার নির্দেশ, দ্রুত বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে রাজ্যের তরফ থেকে। যদিও এদিন রাজ্যের আবেদনও কিছুটা মেনে নেওয়া হয়। মার্চ মাসের ৬ তারিখের মধ্যে একটি কমিটি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। খবর জানাজানি হতেই খুশির হাওয়া বইছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে। আদালত যেই রায় দিয়েছে, তাতে তাঁরা স্বস্তিতে।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। তাদের বক্তব্য, ডিএ আইনি অধিকার এবং দিতেই হবে বকেয়া ডিএ। তাদের তরফ থেকে জানানো হয় যে মে মাসের মধ্যে দুই দফায় মিটিয়ে দিতে হবে বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ। মার্চ মাসের শেষ দিনের মধ্যে দিতে হবে প্রথম কিস্তি এবং এরপর যা বাকি থাকবে, সেটার কত অংশ দেওয়া হবে বা দিতে হবে কতদিনের মধ্যে, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির তরফ থেকে।
ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ঝাড়খন্ড হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তরলোক সিং চৌহান, ছত্তিশগঢ় হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌতম ভাদুরি ও কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা তাঁর নমিনেটেড ইন্সটিটিউশনের সবচেয়ে সিনিয়র অফিসিয়াল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, কমিটিকে ১৫ মের মধ্যে রিপোর্ট তুলে ধরতে হবে এবং রাজ্যকে আয়োজন করে দিতে হবে কমিটিকে লজিস্টিক্যাল সহ সমস্ত সুযোগ সুবিধার। চেয়ারপারসন ঠিক করে দেবেন কমিটির সদস্যদের পারিশ্রমিক। প্রথম কিস্তি দিয়ে দেওয়ার পর, কমিটি যে সূচি তৈরি করে দেবে, রাজ্যকে তা মেনে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আজকের রায় প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবো যদি রাজ্য এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে রাজি না হয়।” অন্যদিকে আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের বক্তব্য, “ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আজ বিচারপতিরা। আদালত বলেছে ডিএ দিতে হবে। জয় হয়েছে কর্মচারীদের। গঠন করে দেওয়া হয়েছে একটি কমিটিও।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










