দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: ব্যারাকপুরের কর্মীসভা থেকে আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কটাক্ষ করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন ঘাসফুল শিবিরকে এবং সমবেদনা জানান মৃতদের পরিবারকে। এরপর মোমো সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার না করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। শুধু তাই নয়, বিচার ওবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি তোলা হয় তাঁর তরফ থেকে।
অমিত শাহ বলেন, “২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এই ঘটনায়। নিখোঁজ ২৭ জন। সব বাংলার নাগরিক। কেন এক্ষেত্রে করা হচ্ছে ভোটবাক্সের রাজনীতি?” এরপর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়ালের চেষ্টা অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনায় রাজ্য সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে অপরাধীদের। যদি ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার, তাহলে অপরাধীদের জেলে ঢোকানো হবে।”
যদিও অমিত শাহের সমস্ত তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “পুরো ঘটনার তদন্ত করছে রাজ্য সরকার।” ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান জানান দেবাংশু।” তিনি বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা শক্ত হাতে দেখছে প্রশাসন। অপরাধী যে বা যারা হোক না কেন, শাস্তি পাবেই।”
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার ভোর রাতে। স্থানীয়দের, প্রায় রাত তিনটে নাগাদ, নজরে আসে আগুনের লেলিহান শিখা। পুলিশ ও দমকলকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে হাজির হয় দমকলের বারোটি ইঞ্জিন এবং প্রায় দেড় দিন পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০। একাধিক দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দুটি মামলা রুজু করে। সরকারের তরফ থেকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে সিভিকে চাকরি দেওয়ার জন্য। আদালত পর্যন্ত মামলার জল গড়িয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল পর্যন্ত করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কয়েকজনকে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছে।



By










