দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “সকলেই শক্ত ছিলাম মানসিকভাবে” কলকাতায় ফিরে এমনটাই দাবি করলেন ববিকন্যা প্রিয়দর্শিনী। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি জানান যে তিনি ও তাঁর মা, সকলেই মানসিকভাবে শক্ত ছিলেন কারণ তাঁরা জানতেন যে এই পরিস্থিতি থেকে তাঁরা বেরিয়ে আসবেন। শুধু তাই নয়, মদিনায় আটকে থাকাকালীন কেমন মানসিক অবস্থা ছিল কলকাতার মেয়রের, তাও তিনি তুলে ধরেন।
এই প্রথম রমজানের সময়ে মা ও মেয়েকে নিয়ে মদিনায় গিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শনী হাকিম। রবিবার নামাজ পাঠের পর খবর আসে ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধের। যদিও শনিবার রাত থেকেই ভয়ংকর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে তারা। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে বাতিল হয় একাধিক বিমান। সুতরাং সেখানেই আটকে পড়েন তাঁরা। ফেসবুক লাইভ করে তিনি সমস্যার কথা জানান। মঙ্গলবার বাড়ি ফেরার পর তিনি সকলের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানান।
প্রিয়দর্শিনী হাকিম বলেন, “আমি, আমার মা, মানসিকভাবে আমরা সকলেই শক্ত ছিলাম। জানতাম এই পরিস্থিতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসবো। আসলে মক্কা-মদিনায় গিয়েছি তো, তাই নিরাপদভাবে যে ফিরতে পারব, সেই ভরসা ছিল।” এরপরই তিনি কলকাতার মেয়রের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, “কিন্তু সবটা জানতে পেরে বাবা অত্যন্ত চিন্তায় ছিলেন। ৬-৭ বার ফোন করতেন দিনে এবং খালি বলতেন তোরা ফিরে আয়। আসলে সর্বদা আমাদের আগলে রাখেন বাবা। তাই খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন।” বলে রাখা ভালো, বর্তমানে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করা হয়েছে কেন্দ্রের সরকারের তরফ থেকে।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির ধ্বংস করার লক্ষ্যে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। ইসরাইলের তরফ থেকে এটিকে নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রোরিং লায়ন এবং আমেরিকা নাম দিয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি। এই হামলার জেরে প্রাণ হারান দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ আরো অনেকে।
তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফ থেকেও। তারাও ইসরাইল ও মিডিল ইস্টে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফ থেকে এই ব্যাপারে অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।



By










