দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ‘বেঙ্গল টার্নিং ইন্টু ব্যাটেলফিল্ড’! বর্তমানে এমনই পরিস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে। সকল দলই এখন বুদ্ধিযুদ্ধে নেমে পড়েছে বাংলার মসনদকে পাখিরচোখ করে। কীভাবে নিজেদের গড়ে শাসন ধরে রাখা যায় বা অন্যের গড় নিজের দখলে করা যায়, তা নিয়ে জোরকদমে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে ঘাসফুল থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবির। একই পথে হাঁটছে বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলিও।
এই আবহে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের প্রতি বড় মন দেখালেন বঙ্গ বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। কী করলেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ব্রিগেডকে পৌঁছাতে হবে সংখ্যালঘুদের কাছে। এই বিষয়ে তিনি নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের হাতে তরোয়াল রয়েছে, তা কেড়ে কলম ধরিয়ে দেবেন এবং বোমার জায়গায় বই তুলে দেবেন।
সংখ্যালঘুদের নিয়ে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক, শুভেন্দু অধিকারী। একবার তিনি এমনও বলেছিলেন যে সংখ্যালঘু মোর্চা বাদ দেওয়া উচিত দল থেকে। এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। গেরুয়া শিবিরকে এর জন্য তীব্র কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের।
এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল বঙ্গ বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের গলায়। শনিবার দলের সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সম্মেলনে তিনি বলেন, “পৌঁছাতে হবে সংখ্যালঘুদের কাছে। তরোয়াল রয়েছে যাঁদের হাতে, সেটা কেড়ে নিয়ে আমরা কলম ধরিয়ে দেবো। বোমার জায়গায় হাতে বই তুলে দেবো।” এর সঙ্গে দলের আদর্শের কথা তুলে ধরেন শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নীতিগতভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজনে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে যে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছে যুদ্ধ।” সেক্ষেত্রে এবার দেখার বিষয় যে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির ঝুলিতে যায় কিনা। কী হয় এবারের নির্বাচনে, সেটাই এখন দেখার।



By










