দেবজিৎ মুখার্জি: নয়া সরকার তৈরি হওয়ার পর ফের অশান্তির আগুনে জ্বলল মনিপুর। চুড়াচাঁদপুর এবং তুইবুং এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অশান্তিতে জড়িয়ে পড়লেন নিরাপত্তা কর্মী ও বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ থেকে শুরু করে পথ অবরোধ ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এখানেই শেষ নয়, পুলিশের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনেও আক্রমণ করা হয়। পাথর পর্যন্ত ছোড়া হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে।
প্রায় এক বছর মনিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন থাকার পর দুদিন আগে তা তুলে নেওয়া হয় এবং এরপরই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। পাশাপাশি, শপথ নিয়েছেন আরও ৪ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া কুকি সম্প্রদায়ের নেত্রী নেমচা কিপগেন। নয়া মন্ত্রীসভায় জয়েন করছেন আরও কুকি-জ়ো জনজাতির আরও ২ জন।
এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। কুকি-জ়ো জনজাতির নেতারা সেই বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে তাঁদের সামাজিক বয়কটের ডাক দেন। শুধু তাই নয়, বন্ধের ডাক পর্যন্ত দেওয়া হয় কুকি অধ্যুষিত এলাকায়। কুকি-জ়ো জনজাতির বিক্ষোভ উগ্র রূপ ধারণ করে। তাঁরা নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান চুড়াচাঁদপুর এবং তুইবুং এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চালু হয় বিক্ষোভ দেখানো। প্রতিবাদ জানাতে দুজন আত্মবলিদানেরও চেষ্টা করেন। তবে পুলিশি বাধার জেরে শেষ পর্যন্ত করে উঠতে পারেননি। এলাকার নিরাপত্তা মজবুতও করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যের পর পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যায়। বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে উঠে আসে অশান্তির খবর। সমাজমাধ্যমেও অশান্তি ও নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে।
পাশাপাশি, কুকিদের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে শুক্রবার পূর্ণ বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে চুড়াচাঁদপুর এলাকায়। শুধু তাই নয়, একটি র্যালি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কোনরকমের কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী নামানো হয়েছে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। তবে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পরও যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। এবার দেখার কি হয় আজ।



By












