দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি দায়ী করলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চন্দ্রনাথের দেহ দেখতে যান তিনি এবং সেখান থেকেই ঘাসফুল শিবিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান যে বিজেপি সংযম দেখাচ্ছে মানে তারা দুর্বল নয়। সিংহের স্থবিরতাকে কেউ যেন তার অসহায়তা ভেবে পদাঘাত করার ভুল না করে।
ময়নাতদন্তের আগে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, চন্দ্রনাথ পুরোপুরি অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন টার্গেট করা হল। শুধু তাই নয়, তিনি এই সন্দেহও প্রকাশ করেন যে গেরুয়া শিবিরকে কোনও বার্তা দেওয়া হচ্ছে কিনা প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বঙ্গ সফর ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে। তাঁর মতে, এই জাতীয় বড়সড় অপরাধ সম্ভব নয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা দুষ্কৃতীদের সাহায্য ছাড়া। পাশাপাশি, তাঁর কটাক্ষ কেউ এমন কাণ্ড ঘটায়নি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে।
ঘটনার রাতের কথা বলতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, যখন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী রওনা দিয়েছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে আর বেঁচে নেই তাঁর ছায়াসঙ্গী। শুভেন্দু ভেবেছিলেন যে তাঁকে শীঘ্র অন্য কোথাও নিয়ে যাবেন চিকিৎসার জন্য। অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে সেই দুঃসংবাদটি শুভেন্দু অধিকারীকে পৌঁছে দেন শমীক ভট্টাচার্যই। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ আজ পরিণত হয়েছে দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে গত ১৫ বছর ধরে কোনও ভয় নেই অপরাধীদের মনে বলেই।
বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এই অঞ্চলটি করিডোর হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশকারী এবং সমাজবিরোধীদের। দেশের নানা প্রান্তে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের থেকে জানা গিয়েছে যে জাল আধার ও রেশন কার্ডের মতো নথি সংগ্রহ করেছে তারা এই এলাকা থেকেই। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশকে দলদাসের মতো আচরণ ছেড়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করার। পাশাপাশি, তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাষায় উত্তর দিতে জানে বিজেপি, কিন্তু আপাতত শান্ত রয়েছে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির জন্যেই।



By









