দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: এমনিতেই পোলেরহাটে তৃণমূলের ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা ও খাইরুল ইসলামের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-আইএসএফ লড়াই অন্য রূপ নিয়েছে। এই আবহে বড় অশান্তি লাগল মিনাখাতে। কী ঘটেছে সেখানে? পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যারা তৃণমূল কংগ্রেস ও আইএসএফের কর্মীরা। এর জেরে একাধিক ব্যক্তি আহত পর্যন্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, অনেকের অবস্থা সংকটজনকও।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে রবিবার সকালে আইএসএফ কর্মীরা মিনাখার বাবুরহাট অঞ্চলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পতাকা লাগাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তখনই ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা আক্রমণে নামেন। পাল্টা দেওয়া হয় আইএসএফের তরফ থেকেও। এখানেই শেষ নয়, বাঁশ, লাঠি, লোহার রড দিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনা থেকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ জন আইএসএফ কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের ভর্তি করানো হয়েছে মিনাখা গ্রামিন হাসপাতালে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য এলাকায় নামানো হয়েছে মিনাখা থানার এক বিশাল পুলিশ বাহিনী। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যেই হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারা সেটা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বসিরহাট জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন বলেন, “আইএসএফ বিজেপির দল। নিজেদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে এমনটা করে তৃণমূল কংগ্রেসকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” অন্যদিকে আইএসএফ নেতা পিয়ারুল ইসলামের বক্তব্য, “দলের পতাকা লাগাচ্ছিল আমাদের ছেলেরা। তখন আচমকা তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় এসে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আমাদের ৭ জন।”
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে একাধিকবার তৃণমূল কংগ্রেস ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের চিত্র উঠে এসেছে, মূলত, ভাঙর থেকে। দুই দলই একে অপরকে প্রতিনিয়ত দোষারোপ করে চলেছে। দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলে চলেছে। এবার দেখার বিষয় যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি হয়। আইএসএফ গতবারের চেয়ে বেশি আসন পায় কিনা বা তাদের গড় ভাঙরে এবার তৃণমূল জয় পায় কিনা, সেটাই এখন দেখার।



By










