দেবজিৎ মুখার্জি, মেদিনীপুর: এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় প্রতীক উর রহমানের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া। শনিবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে, তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। এই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান বর্ষীয়ান বাম নেতা, তথা বিশিষ্ট আইনজীবী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, অধঃপতন হয়েছে প্রতীকের এবং তিনি নানা বাহানা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি, সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।
অবশেষে সেটাই হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক। তাঁর যোগদান করার সময়ে আলিমুদ্দিন থেকে তাঁকে বহিষ্কারের চিঠি আসে। ঘাসফুল পরিবারের সদস্য হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন। প্রতীকের বক্তব্য, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই করছেন বাংলার গৌরব নিয়ে। এই সময়ে বিজেপিকে আটকানোর জন্য তৃণমূলকে দরকার। তৃণমূল কংগ্রেস সবচেয়ে বড় শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। সেই কারণে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি।”
এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মেদিনীপুর জেলা আদালতের বাইরে তিনি বলেন, “অনেক বাহানা থাকে অধঃপতন হলে। একটা আম হতে গাছে অনেক সময় লাগে। কিন্তু তা পড়তে এক মিনিট সময়ও লাগে না। যারা আদর্শগত, নীতিগত, রাজনৈতিক অধঃপতন হয়েছে, সে এখন বাহানা দেবে এই ক্ষোভ ওই ক্ষোভের। কোনও গ্রহণযোগ্য কথা নয় এটা। অধঃপতিত মানুষ। কিছুই বলার নেই এর বাইরে।” সেক্ষেত্রে দেখার আগে কি হয়।



By










