দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচনার পাত্র প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সম্প্রতি, তাঁর আচমকা রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জোর শোরগোল পড়েছে গোটা রাজ্যে। তিনি এটিকে নিজের সচেতন সিদ্ধান্ত বলে দাবি করলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেসের মতে এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক চাপ। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তেতো সম্পর্ক হওয়া সত্বেও দলের মতে, চাপ থেকে এমন সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করে দাবি করেছেন যে অবিচার করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। এবার বিদায়বেলায় সেই রহস্য আরো বাড়ালেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গত রেখে তিনি এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে তার পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। বোস বলেন, “আমি জানি না কি খবর আছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে যখন কোনও মন্তব্য করেছেন তিনি, তখন নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে তার পেছনে। আমি শুনেছি কিছু বলার নেই।”
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি কথা হয়েছে, সেই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “উনি আসতেন, দেখা করতেন। আমাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক ও পেশাদার সম্পর্ক ছিল। আমি চলে যাচ্ছি বলে উনি আমার সঙ্গে দেখা করার কথা ভেবেছিলেন এবং বিদায় জানাতে এসেছিলেন।” শোনা যাচ্ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল রাজ্যপালের। সেই ব্যাপারে তিনি বলেন, “ওনার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল আমার।”
তাহলে কেন পদত্যাগ? সেই ব্যাপারে বোস বলেন, “এটাই খেলার নিয়ম। থামতে জানতে হয়। বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে আমি ৪০ মাস কাজ করেছি। এমন পরিস্থিতি এলো যখন বিবেকের কাছ থেকে জবাব এলো যে এবার পদত্যাগের সময় এসেছে। বিদায় জানানোর সময় এসেছে। সর্বদা আমি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম রাজ্যপাল হিসেবে। আমার উপর কোনও প্রভাব ফেলেনি রাজনৈতিক চাপ। আমার মনে হয়েছিল এবার সময় এসেছে বিদায় জানানোর।”



By










