দেবজিৎ মুখার্জি, মালদা: রাতের অন্ধকারে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মালদায়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় মানিকচক থানার শেখপুর এলাকায়। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের দুই যুবক বিজেপির নির্বাচনী পোস্টার টাঙাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের কার্যকর্তাদের মারধরের অভিযোগ তোলা হয় এবং দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। যদিও ঘাসফুল শিবির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের সেই দুই যুবক সম্পর্কে ভাই। তাঁদের নাম নীতিন কুমার ও বিপিন কুমার। তাঁদের বাড়ির লখনউতে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে দুই ভাইকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করায়, তাঁরা জানান যে তাঁরা পোস্টার লাগাতে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন একজন টোটোচালকও। কথাবার্তা সন্দেহজনক লাগায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং দুই ভাই সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, দলের পোস্টার টাঙানোর কাজ শুরু হয়েছে এক এজেন্সির মাধ্যমে, কিন্তু তা সত্ত্বে সেই দুই যুবক সহ সেই টোটোচালককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের তরফ থেকে। মানিকচক থানার সামনে বিক্ষোভ পর্যন্ত দেখানো হয় বিজেপির তরফ থেকে। যদিও ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, বহিরাগতদের আনা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে এলাকা অশান্তির সৃষ্টি করার জন্য।
মহম্মদ মনিরুল, বসিরুদ্দিন শেখ নামে শেখপুরা গ্রামের দুই বাসিন্দার বক্তব্য, “গ্রামের রাস্তায় গভীর রাতে কেন এভাবে কাজ করবেন উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবক?” বিজেপি নেতা অভিজিৎ মিশ্রের বক্তব্য, “পুরোপুরি এটা তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র। এই ধরনের পোস্টার ও ব্যানার টাঙানোর কাজ শুরু করেছে দল এজেন্সির দ্বারা।” জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিনা কারণে দোষারোপ করা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।” এবার দেখার বিষয় যে ঘটনার জল কতদূর গড়ায়। কি হয় আগামীদিনে সেটাই এখন দেখার।



By










