দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে, তা রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে গোটা বাংলায়। অনেকেই মনে করছেন যে ভোটের আগে বিরোধীদের, একের পর এক বড় ঘোষণার দ্বারা, বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। শুধু তাই নয়, সমাজমাধ্যমে অনেকে এমনটাও দাবি করেছেন যে এই ঘোষণার জেরে শাসক দলের আসন সংখ্যা এবার আরো বাড়বে।
যদিও তেমনটা মনে করছেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, তথা বিজেপি বিধায়ক, শুভেন্দু অধিকারী। কী বক্তব্য তাঁর? বাজেট শেষে তিনি জানিয়েছেন যে বিজেপি ৭৭ থেকে ১৭৭ করবে। শুধু তাই নয়, বাজেটে ঘোষণা প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানান নন্দীগ্রাম বিধায়ক। তিনি দাবি করেন যে এই বাজেট ভিত্তিহীন ও একটা প্রচারপত্র এবং ছলনা করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ছলনা করা হয়েছে। একটা প্রচারপত্র এটা। ভিত্তিহীন। শূন্য নয়, মাইনাস পাবে।” এরপরই বাজেট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলেন তিনি। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “কোন কাজের খোঁজ নেই যুবক-যুবতীদের জন্য। মমত্ব নেই কোনও সরকারের। কোনও বরাদ্দ বাড়ানো নেই আদিবাসী তফশিলিদের জন্য। এরা বুঝে গেছে এবার এদের যাওয়ার সময় চলে এসেছে। ভোটের ইস্তেহারমাত্র রাজনীতিতে।”
নন্দীগ্রাম বিধায়কের আরও বক্তব্য, “একটা কথাও বলেনি নারী সুরক্ষা সম্পর্কে। কোনও ঘোষণা নেই নয়া বিধানসভা ভবন নিয়ে। নারকেল ফাটিয়ে এলেন সাগরে। তারপর কোনও বরাদ্দ নেই। একটা কিছু নেই ঘাটাল নিয়ে।” এরপরই কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাই বাই হীরক রানী। মে মাসে আমরা বাজেট করব। পুরো বাজেট। হাতে কাজ, পাতে ভাত। বাংলার অর্থনীতি বাঁচাতে হলে ভীষণ প্রয়োজন ডবল ইঞ্জিন।”
লক্ষীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ানো নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এখন আর কিছু হয় না ৫০০ টাকা বাড়ালে। আজ ঢপের চপ করেছেন।” এরপরই আত্মবিশ্বাসের সুরে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন যে ৭৭ থেকে ১৭৭ করা হবে। তিনি বলেন, “৭৭ থেকে আমরা ১৭৭ করব।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










