দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: বেলডাঙা অশান্তি কাণ্ডে এনআইএ তদন্ত হওয়ায় খুশি বঙ্গ বিজেপি। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে। সাংবাদিকদের এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দুজনেরই মতে, এনআইএ তদন্ত সঠিক এই ঘটনার জন্য। দুজনেই নিজেদের অবস্থানে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বড় কিছু উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএনআইকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এর আগেও হিংসার ঘটনা ঘটেছিল মুর্শিদাবাদে। তখন আমি গিয়েছিলাম হাই কোর্টে। আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা মানেনি জেলা প্রশাসন।” সম্প্রতি, হওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নন্দীগ্রাম বিধায়ক বলেন, “এরপর আবার হিংসার ঘটনা ঘটে বেলডাঙায়। এনআইএ তদন্তের সিদ্ধান্তকে আমার তরফ থেকে স্বাগত।” ঘটনাটি যে শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং তার চেয়ে বেশি, সেটাও তুলে ধরেন বিজেপি বিধায়ক। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই ঘটনা কোনও প্রতিবাদ নয়। বরং দেশবিরোধী কার্যকলাপ। এতে যোগ থাকতে পারে নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআই ও সিমির।”
অন্যদিকে, নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। তিনি বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত আমাদের সকলের তরফ থেকে।” এরপরই ঘটনার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেদিন যেভাবে হিংসার ঘটনাটি ঘটে, তার থেকে এটা স্পষ্ট যে এর পেছনে একটা বড় চক্রান্ত ছিল।” তিনি আরো বলেন, “রাজ্য পুলিশের আওতার বাইরে এনআইএ। আশা করি তারা গোপন সত্যিই জনসম্মুখে নিয়ে আসতে পারবে ঠিকঠাক তদন্ত করে।”
প্রসঙ্গত, ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। রেল-সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে টায়ার জ্বালানো সবটাই দেখা যায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের বক্তব্য, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। এমনকি জল গড়ায় আদালত পর্যন্তও। হাই কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয় যে দরকার পড়লে কেন্দ্র এনআইএর সাহায্য নিতে পারে তদন্তের ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এটাও জানানো হয় যে রাজ্য চাইলে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারবে কেন্দ্রের থেকে। এরপরই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়। কী তথ্য উঠে আসে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।



By










