দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার নয়া রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন আরএন রবী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বাম নেতারা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। তবে দিল্লিতে জরুরি বৈঠকের জন্য উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বঙ্গ বিজেপির অন্যান্য নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার বেলায় লোকভবনে গিয়ে নয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি বিধায়ক এবং সংবিধান বাঁচানোর আবেদন করেছেন। তিনি রাজ্যপালকে জানিয়েছেন যে গত পাঁচ মাসে তিনি ৫ বার সাসপেন্ড হয়েছেন ও বিধানসভার বাইরে প্রায় সাড়ে এগারো মাস এবং জরুরি অধিবেশনে তাঁকে দেওয়া হয়নি বলতে। রাজ্যপাল যেন সংবিধান বাঁচান। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন নন্দীগ্রাম বিধায়ক।
এদিন বেলার দিকে লোকভবনে গিয়ে আরএন রবীর সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালকে তিনি দেন কমলা গোলাপের স্তবক ও গীতার ইংরেজি অনুবাদ। পাল্টা তাঁকে উত্তরীয় পড়ান রাজ্যপাল। আধঘন্টা কথা হয় দুজনের মধ্যে। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় শুভেন্দু অধিকারী জানান যে তিনি রাজ্যপালকে রাজ্যের পুরো পরিস্থিতির কথা খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভ একেক করে ভেঙে পড়েছে। বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, সংবিধান না মেনে তিনি তাঁকে যখন খুশি সাসপেন্ড করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তাঁকে বলতে দেওয়া হয় না অধিবেশনে।
বিরোধী দলনেতার আরো অভিযোগ, ঘাসফুল শিবির নিজেদের মতো করে বিউরোক্রেসি চালাচ্ছে। অবসরের পরও বিশেষভাবে সরকারি সুবিধা পান আমলারা এবং তাঁদের নিয়োগ করা হয় নতুন পদে। বিভিন্ন জায়গায় খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন সাংবাদিকরা। এই সবটা তুলে ধরে রাজ্যপালের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর অনুরোধ, “সংবিধান বাঁচান আপনি। আপনার কাছে অনুরোধ সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে।” যদিও বিরোধী দলনেতার এমন মন্তব্যে পলিটিক্যাল সার্কেলের একটি অংশ মনে করছেন যে আবারো রাজ্যপালকে নিজেদের পক্ষে আনতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এবার দেখার শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










