দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: যেটা ভাবা হচ্ছিল সেটাই হলো! অবশেষে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। যাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। যোগ দিয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও দাবি করেন যে গেরুয়া শিবিরকে রোখার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দরকার।
সম্প্রতি, সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।
অবশেষে সেটাই হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক। ঘাসফুল পরিবারের সদস্য হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন। প্রতীকের বক্তব্য, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই করছেন বাংলার গৌরব নিয়ে। এই সময়ে বিজেপিকে আটকানোর জন্য তৃণমূলকে দরকার। তৃণমূল কংগ্রেস সবচেয়ে বড় শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। সেই কারণে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি।”
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওকে মিটিং মিছিলে দেখেছি আমি। কিন্তু সিপিএমকে দেখা যায় না। যেটুকু দেখা যায়, তাতে এদেরই দেখা যায়।” এরপরই প্রতীকের প্রশংসা করে ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি ওকে দেখেছি কোনও দলকে আক্রমণ না করতে। যেই লড়াই আমাদের…..। যদি এসআইআর নিয়ে বলি বাংলার জন্য এক, বিহারের জন্য এক। দ্বিচারিতা করা হচ্ছে। একটা রাজ্যে তো সিপিএমও রয়েছে। লড়াই করুক তারাও। মতাদর্শ কি সিপিএমের?” এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে কি হয়।



By










