দেবজিৎ মুখার্জি: “জাতীয় সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়” লোকসভার বিরোধী দলনেতা, তথা কংগ্রেস সাংসদ, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এমন বড় অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি দাবি করেন যে দেশের সুরক্ষা নিয়ে রাগা রাজনীতি করেন। শুধু তাই নয়, তিনি এই দাবিও করেন যে সীমান্তের ব্যাপারে রাগা কিছু জানেন না এবং তাঁর জানা উচিত এই ব্যাপারে।
সম্প্রতি, লোকসভায় রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে কয়েকটি বক্তব্য তুলে ধরেন এবং আক্রমণ করেন মোদি সরকারকে। এই বিষয়ে এবার মুখ খোলেন কিরেন রিজিজু। সোমবার অরুণাচল প্রদেশের বুমলা সীমান্ত থেকে তিনি এই ব্যাপারে পাল্টা দেন সোনিয়াপুত্রকে এবং জানান যে জাতীয় সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত নয়। একটা নিখুঁত ধারণা হওয়া উচিত সীমান্ত সম্পর্কে।
কিরেন রিজিজু বলেন, “কীসের এত সমালোচনা এক অপ্রকাশিত বই নিয়ে? এগুলি জাতীয় সুরক্ষার মতো জরুরি বিষয়।” এর সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, “সতর্কভাবে কথা বলা উচিত আমাদের এই বিষয়ে। রাজনীতির জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয় জাতীয় সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে।” এরপরই রাহুল গান্ধীকে একহাত নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “সীমান্ত সম্পর্কের রাহুলের কোন ধারনাই নেই। তাই এমন মন্তব্য করেছেন। আমি এটাই বলব যে ওনার উচিত এই ব্যাপারে কিছু পড়াশোনা করা।” লোকসভায় রাহুলের আওয়াজ তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সংসদে এসব করা মানে শুধু সমস্যা তৈরি করা। কাজের কাজ কিছু হয় না।”
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের গালওয়ানে লড়াই নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’কে হাতিয়ার করা হয় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর তরফ থেকে। বইয়ের কিছু অংশ কদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজিনে এবং তাতে বলা হয়েছে যে যখন চীনের সেনা কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছিল পূর্ব লাদাখে ট্যাংক নিয়ে, তখন জানানো সত্বেও নাকি সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিষয়টি নিয়েই মোদি সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু বাধা মেলে স্পিকারের তরফ থেকে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এই মুহূর্তে চরমে পৌঁছে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এবার দেখার বিষয় যে এই বিতর্কের জল আরো কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।



By













