দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম ও দলের তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানের মধ্যে অশান্তি এক আলাদা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। শুক্রবার তা নিয়ে প্রশ্ন করায় মেজাজ হারালেন সেলিম। দল কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তরুণ নেতাকে নিয়ে, সেই প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন তিনি কারোর শুনানির জন্য বসেননি। পাশাপাশি তিনি এটাও পরিষ্কার করে দেন যে এসবের জায়গা নয় সাংবাদিক সম্মেলন।
বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় আলোচনার চরিত্র প্রতীক উর রহমান। গত সোমবার তিনি সিপিএমকে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা চিঠি মারফত জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে পড়ে যায় হইচই। তার উপর বিষয়টি অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায় যখন শোনা যায় যে তিনি নাকি ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরবেন। যদিও তিনি সরাসরি জানাননি যে আদৌ শাসক শিবিরে যোগ দেবেন কিনা। তবে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অনেক দলই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
প্রতীক উরের মান ভাঙ্গানোর জন্য বিমান বসুর তরফ থেকে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কেন তা ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেটাও জানান প্রতীক। পাশাপাশি, দলের ভিতরকার খবর বাইরে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভও উগরেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দলে কিভাবে যুবনেতারা নিপীড়িত হচ্ছেন, সেই ব্যাপারেও আওয়াজ তোলেন। এক কথায়, দলের কাজকর্ম নিয়ে তিনি কতটা অসন্তুষ্ট, তা প্রতীক জনসম্মুখে এনেছেন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার, রাজ্য কমিটির দুই দিনের বৈঠক শেষে, আলিমুদ্দিনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতীককে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারান বর্ষিয়ান বাম নেতা। তিনি বলেন, “কারোর শুনানির জন্য আমি বসিনি। কী করে আমি রায় দেব?” তাঁর সংযোজন, “কেউ ফরিয়াদ করেনি এখানে। এসবের জায়গা সাংবাদিক সম্মেলন নয়।”
যদিও এরপরে প্রতীককে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। সেলিম বলেন, “ওর বিরুদ্ধে গত দেড়-দুই মাসে অভিযোগ আসে। আমাদের এই বিষয়ে দল ও অভ্যন্তরীণ কমিটি রয়েছে। সেখানে আমি অভিযোগ পাঠাই। তারপর আমি নিজে সমস্যার সমাধানে নামলাম। তখন থেকেই খারাপ হলো সম্পর্কটা। সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারলাম যে ও নাকি যোগাযোগ করেছে অন্যান্য দলের সঙ্গে। এবার দল এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আপনাদের জানানো হবে যখন নেওয়া হবে।” এর সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, “সিপিএম থেকেই ওর ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয়েছে। সন্তান হারানোর মতো বেদনা হয় এমন কর্মীদের হারালে। মা সন্তানের মৃতদেহ আগলে রাখে! সায়েন্টিফিক নয় এটা।” এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে জল কতদূর গড়ায়।



By










