দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিদ্রোহী তরুণ বাম নেতা প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন সিপিএমের অন্যতম বর্ষিয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী। কী বক্তব্য তাঁর? প্রতীককে তিনি ‘অর্বাচীন’ তকমা দিলেন। তাঁর সাফ কথা, তিনি কোনও উত্তর দেবেন না অর্বাচীনের কথার। পাশাপাশি, তিনি এটাও দাবি করেন যে পরে আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে যে প্রতীক কার হয়ে এবং কোথায় খেলবেন।
বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় আলোচনার চরিত্র প্রতীক উর রহমান। গত সোমবার, দলের একাধিক কাজকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে, তিনি সিপিএমকে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা চিঠি মারফত জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে পড়ে যায় হইচই। তার উপর বিষয়টি অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায় যখন শোনা যায় যে তিনি নাকি ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরবেন। যদিও তিনি সরাসরি জানাননি যে আদৌ শাসক শিবিরে যোগ দেবেন কিনা। তবে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অনেক দলই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
প্রতীক উরের মান ভাঙ্গানোর জন্য বিমান বসুর তরফ থেকে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কেন তা ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেটাও জানান প্রতীক। পাশাপাশি, দলের ভিতরকার খবর বাইরে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভও উগরেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দলে কিভাবে যুবনেতারা নিপীড়িত হচ্ছেন, সেই ব্যাপারেও আওয়াজ তোলেন। এক কথায়, দলের কাজকর্ম নিয়ে তিনি কতটা অসন্তুষ্ট, তা প্রতীক জনসম্মুখে এনেছেন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে। যদিও সেলিমের বক্তব্য, প্রতীকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছিল যা তিনি এই সংক্রান্ত দল ও অভ্যন্তরীণ কমিটিকে পাঠান এবং যখন তিনি সমস্যার সমাধান করতে যান, তখন সম্পর্ক খারাপ হয়।
এই পরিস্থিতিতে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “অর্বাচীনের কথা। আর কোনও উত্তর দেব না অর্বাচীনের কথার।” তাঁর সংযোজন, “উনি কোথায় বা কার হয়ে খেলবেন, সেটা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে পরে। যখন কেউ হড়কে করে অতলে তলিয়ে যায়, তখন তার কথার কোনও গুরুত্ব থাকে না। তাঁর কথার কি কোনও মূল্য থাকে।” মনে করা হচ্ছে যে শনিবারই ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরতে পারেন প্রতীক। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










