দেবজিৎ মুখার্জি: বুধবার নজির গড়েন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ঘিরে যে মামলা তিনি দায়ের করেছিলেন, তাতে তিনি নিজে প্রশ্ন করেন। স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন। এদিন তাঁকে সঙ্গ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী সাংসদ, তথা বিশিষ্ট আইনজীবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের তুলে ধরেন যে আদালতে কি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও জানান যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
কী কী বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা জানিয়ে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ছোট ছোট ভুল। তার জন্য নাম বাদ যাচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে।” এরপর তৃণমূল সাংসদের কটাক্ষ, “ইআরওদের ক্ষমতা নিয়ে মাইক্রো অবজারভাররা সিদ্ধান্ত নেওয়া বেআইনি। আর ৪টে দিন সময় আছে হিয়ারিংয়ের জন্য এবং এখনো তা হয়নি লক্ষাধিক মানুষের।”
বর্ষিয়ান তৃণমূল নেতা আরো বলেন, “প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে দরকার হলে সময়সীমা বাড়ানো হবে হিয়ারিংয়ের। সোমবার এই মামলার হিয়ারিং হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাজের জন্য এসেছিলেন, বাংলার মানুষের হয়ে যেগুলি বলার, আজ তার অনেকটাই বলেছেন। যদি উনি পরবর্তী শুনানিতে আসতে পারেন, তাহলে ফের বলবেন। উনি যে দাবি করে এসেছেন, সুপ্রিম কোর্টে তা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তবে আদালত মনোভাব প্রকাশ করেছে, প্রয়োজন রয়েছে আরও সময় বাড়ানোর। গ্রহণযোগ্য নয় এই ছোটখাটো ভুলত্রুটিগুলি। আদালত দেখবে, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের বাদ যাক নাম। যাঁরা চলে গিয়েছেন রাজ্য থেকে, তাঁদের নাম বাদ পড়ুক। সামান্য ভুলের জন্য যেন তালিকা থেকে বাদ না যায় বাকিদের নাম, আদালত তা মৌখিকভাবে জানিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বুধবার প্রধান বিচারপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনার পর বলেন, “দেখছি, তেমন হলে সময় বাড়ানো হবে। ফের সোমবার শুনানি। যেই কারণে তিনি এসেছিলেন, বাংলার মানুষদের হয়ে, অনেকটাই বলেছেন। সেদিন যদি আসেন, পরের দিন বাকিটা বলতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, উনি বলতে পারলেন বাংলার মানুষের হয়ে।” শুনানি শেষে দু’পক্ষকেই নোটিস দেওয়া হয়। কমিশনের তরফ থেকে কি কি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য কত অফিসার দিতে পারবে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় নবান্নকে। এছাড়া আদালতের তরফ থেকে এটাও জানানো হয়েছে যে মাইক্রো অবজারভারের দরকার নেই যদি রাজ্য সহযোগিতা করে এবং কমিশনকে সেন্সেটিভ হতে বলে। এবার দেখার বিষয় যে সোমবার কি হয়।



By










