দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: বনগাঁয় টলি অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থা মামলায় জামিন পেলেন ধৃত জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। তবে জেলমুক্তি হচ্ছে কি? জানা যাচ্ছে জামিন পেলেও এখনই জেল থেকে বেরোনো হচ্ছে না তাঁর। কারণ আরো একটি মামলাও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে এবং সেই কারণে বিচারকের তরফ থেকে তাঁকে আরো ৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি, বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের অনুষ্ঠানে তিনি নির্ধারিত সময়ের থেকে ঘন্টাখানেক পরে পৌঁছান। অভিযোগ, তিনি দেরিতে এসেছিলেন বলে পারফরম্যান্সের মাঝে জোর করে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য যাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও উদ্যোক্তারা পাল্টা মিমির দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন। তাদের বক্তব্য, অভিনেত্রী দেরিতে পৌঁছানোতে জনতার ধৈর্য ভাঙ্গে এবং তাঁকে পারফর্ম করতে দেওয়া হয়নি আর। এরপরই পুলিশ তদন্তে নামে।
তারপর গ্রেফতার করা হয় তনয় শাস্ত্রীকে। তবে পুলিশ যখন তনয় শাস্ত্রীকে আটক করতে এসেছিলেন, তখন মহিলারা জড়ো হন এবং পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। শেষে ঠেলাঠেলি করে বাড়িতে ঢুকতে হয় পুলিশকে এবং তারপর তনয় শাস্ত্রীকে বাইরে নিয়ে আসা হয় আটক করে। এছাড়া আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হয় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য। আদালতে তোলা হলে পুলিশ ৭ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানায়। তবে ৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হলে ফের তোলা হয় আদালতে। এবারও পুলিশের তরফ থেকে এক সপ্তাহের জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয় এবং প্রস্তাব দেওয়া হয় শ্লীলতাহানির ধারার যোগ করারও। ধৃত জ্যোতিষীর আইনজীবীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। তবে এবারও চার দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয় মিমি চক্রবর্তীর গোপন জবানবন্দিরও। তা নেওয়াও হয়ে গিয়েছে।
শনিবার সেই মেয়াদ শেষ হয় এবং আবারও তোলা হয় কোর্টে। মিমি চক্রবর্তীর করা মামলায় তনয় শাস্ত্রী জামিন পেলেও জামিন পাননি পুলিশকে হেনস্তা করা মামলায়। কোর্টের নির্দেশ, তনয় শাস্ত্রী ও বাকিদের আরো ৪ দিন হেফাজতে থাকতে হবে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কবে সকলে জেল থেকে বেরোন। পরবর্তী অধ্যায় কি হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের। তবে জেল থেকে বেরোলেই যে ঘটনা শেষ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।



By










