দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কল্পতরু রাজ্য সরকার। রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে করা হলো বড় ঘোষণা। একটি নয়, দুটি নয়, একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। শুধু তাই নয়, কিসে কত বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্তও যাবতীয় সবকিছু আজ তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে, মোট ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট এদিন ঘোষণা করা হয়েছে। বলা ভালো, ভোটের আগে আজ রীতিমত একটি মাস্টারস্ট্রোক দিলো ঘাসফুল শিবির।
এদিন বাজেট পেশ করা হয় দুপুর আড়াইটে নাগাদ এবং তা তুলে ধরেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যেহেতু আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার রায় নিয়ে হইচই পড়েছে, তাই সরকারের তরফ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বাড়ানো হলো ৫০০ টাকা। এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে যে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তা চালু হবে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫০০০ কোটি টাকা।
সম্প্রতি, আশা কর্মীদের আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছেছিল পশ্চিমবঙ্গে। পথে নেমে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন আশা কর্মীরা। এই বাজেটে তাঁদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়। হাজার টাকা করে ভাতা বাড়ল তাঁদের। তবে শুধু আশা কর্মী নয়, ভাতা বাড়ানো হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং তার সহায়কদের জন্যও। এই ক্ষেত্রেও হাজার টাকা ভাতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, এটাও জানানো হয়েছে যে তাঁদের মৃত্যু হলে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তাঁদের পরিবারকে।
পাশাপাশি, এদিন ঘোষণা করা হয় “বাংলার যুব সাথী” নামে এক নতুন প্রকল্পও, যেখানে ২১-৪০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীরা, যাঁরা মাধ্যমিক বা সেই সমান পরীক্ষা পাশ করেছেন এবং বেকার, তাঁরা মাস গেলে পনেরশো টাকা করে পাবেন। চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে তা চালু করা হবে। সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য এই সুবিধা পাওয়া যাবে স্থায়ী চাকরি না হওয়া পর্যন্ত। মোট ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। তবে যিনি আবেদন করবেন, তিনি যদি অন্য কোনও সরকারি স্কলার্শিপ বা সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিমের সুবিধা পান, তাহলে এর সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া সিভিক ভলেন্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশদের হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাবন্ধুদেরও হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের কথা বলা হয়েছে এদিন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বিশাল ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের এই ঘোষণা ভোটে গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By










