দেবজিৎ মুখার্জি: সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে হৃষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। চরম নিন্দা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বিতর্কিত কাজ করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী। কী করলেন তিনি এবার? সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন এবং তা ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা। ফের নিন্দা জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। আওয়াজ ওঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মতিথি উপলক্ষে নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “শ্রদ্ধাঞ্জলি স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে।” রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এটাও দাবি করেন যে তাঁর আদর্শ ও বার্তা প্রেরণা দেবে দেশবাসীকে। এই পোস্টে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করায় শুরু হয় বিতর্ক। কী করে তিনি ‘স্বামী’ বললেন? এই প্রশ্ন ওঠে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র নিন্দা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমি আবারও স্তম্ভিত! বারবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে। বাংলার মনীষীদের প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা, অসংবেদনশীলতা, আজ তা আবার প্রকট হলো। আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পুণ্য লগ্নে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটা অশ্রুতপূর্ব, অপ্রযোজ্য তকমা জুড়ে দিলেন— ‘স্বামী’!”
তিনি আরো লেখেন, “সবাই জানেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন তৈরি করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি বসে। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী – ঠাকুর-মা-স্বামীজি – সেখানেও তিনি ঠাকুর; মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ হলেন ‘স্বামীজি’। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।” অবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অনুরোধ, “আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।”



By










