দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনা পাত্র শুভেন্দু অধিকারী। আগামীকাল শপথগ্রহণের পর শুরু হবে তাঁর রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পথচলা। বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে জোড় আলোচনা চলছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। খুশি গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে তাঁর অনুগামীরা। বলা ভালো, সকলেই অপেক্ষায় রয়েছেন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের।
রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিশেষ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিষ্কার করে দেন যে আমির পরিবর্তে আমরা নীতিতে কাজ করবে গেরুয়া শিবির। শুধু তাই নয়, তাঁর আশ্বাস, রাজ্যবাসী স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির দেওয়া গ্যারান্টি পূরণের কাজ করবে দল। এছাড়া তিনি বলেন, “যা যা অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে মহিলাদের উপর, কমিশন বসবে সমস্ত ঘটনার তদন্তের জন্য। যত দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তের জন্য কমিশন বসানো হবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে। শাস্তি দেওয়া হবে দোষীদের।”
শুভেন্দু অধিকারী এও আশ্বাস যে ভোটের মুখে যে সংকল্প পত্র আনা হয়েছিল দলের তরফ থেকে, তা সময়ে সময়ে পূরণও করা হবে। পাশাপাশি, বেঁধে দিয়েছেন আগামী ভোটের লক্ষ্যও। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে পাশে আনব ৬০ শতাংশের বেশি মানুষকে ইতিবাচক কাজ, সঙ্কল্প পত্র কার্যকর করে। বাংলাকে নয়াভাবে নির্মাণের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা পূরণের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য একসাথে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যের মাঝে তিনি সকল বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে টানা ১ মিনিট হাততালি দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্মান জানাতে।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী কারচুপির অভিযোগ তোলেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকেও এর পাল্টা দেওয়া হয় তাঁকে সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। আগামীকাল শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। এবার দেখার বিষয় যে রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করতে পারেন কিনা। বাংলার পরিস্থিতি আগামীদিনে কেমন হতে চলেছে, তা বলবে সময়।



By










