দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই এবার উল্টো সুর শোনা গেল প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ, তথা অভিনেত্রী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। কী বললেন তিনি? ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক দলের প্রভাব নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিগত দেড় দশক আগে ইন্ডাস্ট্রি চালাত না কোনও রাজনৈতিক দল এসে। তারকা সাংসদের এমন মন্তব্যকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
এরপরই ঘাসফুল শিবিরের একাধিক নেতা ও মুখপাত্র বেসুরো হতে শুরু করেন এবং দল বিরোধী মন্তব্য করেন। এবার সেই তালিকায় নাম উঠলো তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, “এটা মানতেই হবে আমরা এতবছর ধরে অভিনয় করেছি আগে তো এগুলো ছিল না। বিগত ১৫ বছর আগে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না কোনও রাজনৈতিক দল এসে। এটাই সত্যি। আমরা কাজ করেছি নিজেদের মতো। ইম্পার প্রেসিডেন্ট, ফোরাম সব কাজ করতো একসাথে। আলাদা আলাদা ফোরাম ছিল সমস্ত ফিল্ডের। তার মধ্যে থাকতেন একজন ‘হেড’, যাঁর তত্ত্বাবধানে চলত সবটা। আমরা বেশ শান্তিপূর্ণভাবে ও আনন্দের সঙ্গে কাজ করেছি।”
তিনি আরো বলেন, “তবে সেটা হয়েছিল ইদানিংকাল। অনেকেই সেটা পারছিলেন না মেনে নিতে।” এখানেই শেষ নয়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দলের হাত ধরে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করেন, ইন্ডাস্ট্রির ভিতর তাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সমালোচনা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। কিন্তু এতদিন কেন তিনি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতি নিয়ে আওয়াজ তোলেননি, সেই প্রশ্নের উত্তরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যেহেতু সরকার তাদের ছিল, হয়তো আমরা কেউ, সেই অর্থে খুব জোর গলায় তুলতে পারিনি আওয়াজ।” সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই দাবিও করেন যে বহুদিন ধরেই তাঁর মনে হয়েছিল যে ঘাসফুল শিবিরকে আর চায় না রাজ্যবাসী। রচনার এমন মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তিনি দল পাল্টাবেন কিনা।



By










