দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আর মাত্র কটা ঘন্টা। রাত পোহালেই নয়া বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ, যা ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে দলীয় কর্মীদের। তার আগে শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে এই ঘোষণার পর তিনি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন।
ঘোষণার পর অমিত শাহ বলেন, “শুভেন্দুদাকে জেতানোর জন্য আমার বিশেষ ধন্যবাদ ভবানীপুরবাসীকে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “মমতাজি, আপনি তো বলতেন যে আপনি ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। মনে রাখুন, শুভেন্দুদা আপনাকে আপনার ঘরে ঢুকেই হারিয়েছেন।” শপথ নিতে চলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বেশ কঠিন লড়াই করেছেন শুভেন্দুদা। নন্দীগ্রামের সাথে ভবানীপুর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তাঁকে পরাজিত করেছেন। আমি বহুদিন ধরে চিনি শুভেন্দুদাকে। তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় থেকে জানি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি তিনিই যোগ্যতম ব্যক্তি রাজ্যে সুশাসন ও জনতাকে সুরক্ষা দিতে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেউ তিনি ছাড়া কারোর নামই প্রস্তাব করেননি। আগামী ৫ বছর তিনি রাজ্যবাসীর জন্য ভালোভাবে কাজ করবেন এবং তৈরি করবেন নয়া বাংলা।”
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী কারচুপির অভিযোগ তোলেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকেও এর পাল্টা দেওয়া হয় তাঁকে সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। আগামীকাল শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। এবার দেখার বিষয় যে রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করতে পারেন কিনা। বাংলার পরিস্থিতি আগামীদিনে কেমন হতে চলেছে, তা বলবে সময়।



By










