দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কদিন আগে শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বাংলার মাটিতে গেরুয়া শিবিরকে রুখতে বামেদের কাছে সাহায্যের আবেদন করলেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বাম নয়, অতি বামেদের সঙ্গে জোট নিয়েও যে আপত্তি নেই, তাও তিনি পরিষ্কার করে দেন। রাজ্যে এক বড় বিরোধী মঞ্চ তৈরির ডাক দেন রাজ্যের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা।
শনিবার, ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে দলের একাধিক বিধায়ক ও নেতাকে নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি বিজেপি বিরোধী দলগুলি সঙ্গে জোট বাঁধার আবেদন জানান। পাশাপাশি, বামেদের নিয়ে কোনও ইগো নেই দাবি করে তিনি জানান যে বাম, অতি বাম, সকলকে নিয়েই চলতে চান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সন্ত্রাসের বজ্রপাত চলছে চারিদিকে। ভয় না পেয়ে রাজ্যে যে সমস্ত বিজেপি বিরোধী দল, ছাত্র, যুব সংগঠন রয়েছে, তাদের আবেদন জানাচ্ছি তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বঙ্গে জোট বাঁধার। লেফটিস্টদের নিয়েও কোনও ইগো নেই আমার। লেফটিস্ট, আলট্রা লেফটিস্ট চলতে চাই সকলকে নিয়ে। আসুন জোট বাঁধি আমরা।” দিল্লির পাশাপাশি রাজ্যেও তিনি বিরোধী ঐক্য মঞ্চ তৈরির আহ্বান জানান।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের দাবি করেন যে লড়াইটা ঘাসফুল শিবিরই জিতেছে এবং তিনি পরাজিত হননি। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর বক্তব্য, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশের বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি বলেন, “আজ থেকে শুরু হলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নীতি ও নৈতিকতার লড়াই।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By










