দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ২১শে জুলাই শহীদ দিবস সভার আগে চাঞ্চল্যকর কান্ড! বিজেপির বিরুদ্ধে মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া শিবিরের ৬০-৬৫ জন বাইকে করে এসে তাণ্ডব চালান। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি এবং হুমকি দেন আদালত অবমাননার মামলা করার।
এবারের ২১শে জুলাই শহীদ দিবস সভাকে ঘিরে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। একদিকে পরাজিত হওয়ার পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে গোটা তৃণমূল – কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল। দুই শিবিরই পৃথক জায়গায় সভা করছে। মমতাপন্থীরা করবেন বিড়লা প্লানেটরিয়ামের সামনে। অন্যদিকে ঋতপন্থীরা করবেন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। যদি সভার অনুমতি পেতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অবশেষে আদালতের তরফ থেকে এই কর্মসূচির অনুমতি মেলে বিড়লা প্লানেটরিয়ামের সামনে।
সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। তবে রাত হতেই মমতার কাছে সভাস্থল ভাঙচুরের খবর আসে। তা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম ছুটে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের দুই প্রভাবশালী সাংসদ দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।
সভাস্থলের সামনে থেকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমাদের সভা ভেস্তে দেওয়ার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে সভায় না আসতে পারে। শহিদ পরিবারকে আটকাতে পুলিশ তাঁদের বাড়ির বাইরে বসে রয়েছে।” এরপর বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিজেপির ৬০-৬৫ জন বাইকে করে এসে ভাঙচুর চালিয়েছে। ছাত্র-যুবদের উপরে হামলা চালায়। একটা হুলিগান বাহিনী, এক ক্রিমিনাল তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি কোর্টের অর্ডারে বাইরে আছেন। আর সেই নেতা মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ।”
আদালত অবমাননার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, “যেখানে কলকাতা হাই কোর্ট অর্ডার দিয়েছে, সেখানে সভাস্থলে ভাঙচুর চললেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি পুলিশের তরফ থেকে। এতে আমি অবাক।” সরকার ও পুলিশকে তাঁর হুমকি, “আদালত অবমাননার মামলা করতে বলব পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। আমাদের কি বসে থাকতে হবে পাহারা দেওয়ার জন্য?” জানা গিয়েছে, রাতভর মঞ্চ পাহাড়া দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তাঁর শিবিরের অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা। ভোরেও নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখানে দেখা যায়।



By










