দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙন ঘাসফুল শিবিরে। এদিন বিকেলে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের কালেকাতলা -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁঠালবেড়িয়া গ্রামে ২০০র বেশি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলো হুমায়ুন কবিরের জনতা উন্নয়ন পার্টিতে। কী কারণে শাসকদলের পতাকা ছেড়ে হুমায়ুনের দলের পতাকা ধরা? দলবদলুদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারের কারণেই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে তাঁরা।
এদিন ঘাসফুল শিবির থেকে আসা কর্মী-সমর্থকেরা পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের জনতা উন্নয়ন পার্টির জেলা সভাপতি পঙ্কজ গাঙ্গুলীর হাত থেকে দলের পতাকা তোলেন এবং এরপরই শাসকদলের বিরুদ্ধে খুব উগরে দেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় উন্নয়ন হয়নি ও কেউ সঠিক বিচার পাননা। শুধু তাই নয়, তাঁদের আরো অভিযোগ, দালালরাই সব ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে গ্রামে গ্রামে ঝামেলা হলে।
রিজওয়ান শেখ, পাপ্পু শেখদের অভিযোগ, “তৃণমূল ছেড়েছি তৃণমূলের অত্যাচারের কারণেই। সব ব্যাপারে দালালরা নাক গলায় গ্রামে গ্রামে অশান্তি হলে। ন্যায্য বিচার কেউ পায় না।” এরপর কতজন দল পাল্টেছেন, সেই ব্যাপারে তাঁরা বলেন, “আজ আমরা জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দিয়েছি প্রায় ২০০ জন পরিবার। আরো অনেকে রয়েছেন আমাদের সঙ্গে।”
অন্যদিকে এক জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতার বক্তব্য, “বহুদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন এখানকার মানুষরা বর্তমান সরকারের উপর। এরা বরাবরই শোষিত ও লাঞ্ছিত। এখানকার মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মচ্ছিল তৃণমূল নেতাদের ব্যবহারে। তাই তাঁরা একটা দ্বিতীয় প্লাটফর্ম খুঁজছিল বহুদিন ধরে। সেটাই আমাদের কাছে এনে দিয়েছেন হুমায়ুন সাহেব।”
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর হুমায়ুন কবির জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেন। এরপর লাগাতার তিনি ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ করে চলেছেন। শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে বিস্ফোরক বা বিতর্কিত মন্তব্য পর্যন্ত তিনি করে যাচ্ছেন। তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল জিতবে এবং সরকার গঠন করবে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। কটি আসন পায় জনতা উন্নয়ন পার্টি, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।



By










