দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। জোর প্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। এর মাঝে ফের অস্বস্তি বাড়লো শাসক শিবিরের। আবারো নিয়োগের দাবিতে পথে নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার ২০১৪ ও ২০১৭ সালের টেট পাশ চাকরিপ্রার্থীদের তরফ থেকে নামা হল বিকাশ ভবন অভিযানে। ফের পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান চাকরিপ্রার্থীরা এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিন সকাল থেকেই বিকাশ ভবন অভিযান ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় বিধাননগর কমিশনারেটের তরফ থেকে এবং গোটা এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। বিধাননগর করুনাময়ীতে পৌঁছাতেই মিছিল আটকানো হয় পুলিশের তরফ থেকে। এরপরই অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। এদিন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা এবং কয়েকজনকে আটক পর্যন্ত করা হয়। এই বিক্ষোভের জেরে করুণাময়ী চত্বরে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে পড়তে হয় ভোগান্তির মুখে।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, আদালত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও হচ্ছে না নিয়োগ। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের আরও অভিযোগ, বহুদিন ধরে এই ব্যাপারে দাবি জানানো সত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপরই চাকরিপ্রার্থীরা পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের পদত্যাগের দাবি তুলে বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জাতীয় ঘটনা রাজ্য সরকারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলবে। শুধু তাই নয়, এমনটাও মনে করা হচ্ছে যে বিরোধীদের হাতে এভাবে উঠে যাচ্ছে অস্ত্র। এবার দেখার বিষয় যে কিভাবে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। কি পদক্ষেপ নেবে তারা, সেটাই এখন দেখার।
যদিও এই প্রথমবার নয়, এর আগে একাধিকবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা, যা ঘুরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল জোরদার রাজনৈতিক তরজা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে লাগাতার কটাক্ষের মুখে পড়তে হতো বিজেপি থেকে শুরু করে বাম-কংগ্রেস সকলেরই। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরও পাল্টা দেয় বিরোধীদের। এবার দেখার যে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কোথায় গিয়ে তা শেষ হয়।



By










