দেবজিৎ মুখার্জি: বর্তমানে ইউনূসের দেশে, অর্থাৎ বাংলাদেশে, চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, প্রতিনিয়তই প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। এবার তা নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। কী বললেন তিনি? সংঘ প্রধান দাবি করেন যে সেখানকার হিন্দুরা যদি একসাথে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন, তাহলে বিশ্বের সমস্ত হিন্দু তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।
রবিবার মুম্বইতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে মোহন ভগবত একাধিক বার্তা দেন। উঠে আসে বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের বিষয়টিও। এই ব্যাপারে তিনি নিজের অবস্থানে জানান যে মুজিবের দেশে এক কোটিরও বেশি হিন্দুদের বাস এবং তাঁরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেন, তাহলে আরো হিন্দুদের সমর্থন পাবেন।
মোহন ভাগবত বলেন, “প্রায় এক কোটি ২৫ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশে বসবাস করেন।” এরপরই সংঘ প্রধানের বার্তা, “অধিকারের জন্য যদি তাঁরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেন, তাহলে পৃথিবীর সমস্ত হিন্দু তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।” শুধু তাই নয়, মোহন ভগবত এটাও দাবি করেন যে সকল হিন্দুদের সাহায্য পাবেন বাংলাদেশের হিন্দুরা। তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে বাংলাদেশে চলতি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সকল হিন্দুকে এক হয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে পতন হয় আওয়ামি লিগ সরকারের। তারপর দেশের দায়িত্ব যায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহাম্মদ ইউনূসের কাঁধে। এরপরই গোটা বাংলাদেশে দেখা যায় অরাজকতা। প্রতিটি প্রান্তে নির্যাতনের শিকার হন হিন্দুরা। বাড়িঘর ভাঙচুর থেকে শুরু করে মন্দির ভাঙচুর, প্রায় সবকিছুই দেখা যায়। শুধু তাই নয়, বহু হিন্দুকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়।
সম্প্রতি, দিপু দাসের হত্যাকাণ্ড দেখে আঁতকিয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। হত্যা করে তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখে অনেকেই সরব হন। বিশেষ করে ভারতবর্ষ থেকে এই বিষয়ে আওয়াজ তোলা হয় এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবি তোলা হয়। এখনো হিন্দু নিধন অব্যাহত রয়েছে সেখানে। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে পরিস্থিতি কি হয়। কিভাবে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবেন সেখানকার হিন্দু সমাজ, সেটাই এখন দেখার।



By













